স্পোর্টস ডেস্ক : প্রথম সেমিতে কঠিন লড়াই হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত জয়ী নিউজিল্যান্ড। প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে আসতে পেরে খুশির জোয়ার বইছে দেশটিতে। কিন্তু ২৯ মার্চ ফাইনালে কিউইদের প্রতিদ্বন্দ্বী কে, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। বৃহস্পতিবার হবে ফয়সালা। সিডনিতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এদিন মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত ও চারবারের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। বলার অপেক্ষা রাখে না, কি উত্তেজনা তৈরি হবে এই ম্যাচটিতে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের মতো আইসিসির সুনজর যদি ভারতের উপর থাকে, তাহলে হতাশই হতে হবে সহ-আয়োজক অস্ট্রেলিয়াকে। এই ম্যাচের আগে তাই চাপা গুঞ্জন, শেষ পর্যন্ত ভারত আবার আইসিসিকে হাত করে না নেয়। তবে সেটা দেখা যাবে ম্যাচেই। তার আগে দেখা নেয়া যাক সংখ্যা তথ্যে দুই দলের পরিসংখ্যান।
১. সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩ ওয়ানডে খেলে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে ভারত। ২০০৮ সালে ত্রি-দেশীয় সিরিজের প্রথম ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই মাচে প্রথম ও একমাত্র জয় পায় ভারত।
১০-৩০: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ১০-৩০। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সর্বশেষ জয়টি আসে ২০১২ সালে।
০: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এর আগে ছয়বার খেলে একবারও পরাজয়ের মুখ দেখেনি অস্ট্রেলিয়া। শুধু ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিততে পারেনি অসিরা। সেবার ড্র করেও ফাইনালে যায় চারবারের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভারত এর আগে পাঁচবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলে তিনবার জয় পায়। শেষ দুই সেমিতেই জয় পায় ধোনি শিবির।
১-১: বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে থাকলেও দুই দলের নকআউট পর্বের লড়াইয়ে সমতা বিরাজ করছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই দল সমান একটি করে জয় পেয়েছে। ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হওয়া ভারত গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে অসিদের হারিয়ে সেমিতে উত্তীর্ণ হয়।
৮-২: সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলা সর্বশেষ ১০ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ৮-২। দুটি পরাজয়ই শ্রীলংকার বিপক্ষে। এই মাঠে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে লংকানদের হারানোর আগে ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
১-৯: চলতি বিশ্বকাপে সিডনির মাঠে আগে ব্যাট করে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩৭৬ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪০৮ রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই দুই ম্যাচ ছাড়া সিডনিতে দিবা-রাত্রির শেষ ১০ ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করা দলের জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ১-৯। অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ ছাড়া বাকি ১০ ওয়ানডের মাত্র একটিতে আগে ব্যাট করা দল জয় পেয়েছে। ২০১১ সালে ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ২৫৩ রান করা অস্ট্রেলিয়া ধোনির দলকে অলআউট করে দিয়ে ম্যাচ জিতে নেয়।
১৬৫: চলতি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটিতে মাত্র ১৬৫ রান আসে। ছয় ইনিংসে মাত্র একটি ফিফটি জুটি গড়তে পেরেছেন অসি ওপেনাররা।
৮১.৯২: ১১ থেকে ৪০ ওভারের মধ্যে ভারতের ব্যাটসম্যানরা উইকেট-প্রতি ৮১.৯২ গড়ে রান সংগ্রহ করেছেন যা এবারের বিশ্বকাপের রেকর্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শ্রীলংকা এই সময় উইকেট-প্রতি গড়ে প্রায় ৫০ (৪৯.৯১) করে রান তুলেছেন।
০: চলতি বিশ্বকাপে একমাত্র দল হিসেবে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’তে কোনো উইকেট হারায়নি ভারত। এই সময় তারা ৭.৩৬ গড়ে ২২৭ রা তুলেছে।
২১.৬৩: ভারতীয় বোলারদের গড় ২১.৬৪, যেটি বিশ্বকাপের ১১ আসর মিলিয়ে দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ বিশ্বকাপে ২২.৫১ গড়ে ৬৮ উইকেট নিয়েছিল ভারতীয় বোলাররা।
১৮.৮০: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিরাট কোহলির ব্যাটিং গড় মাত্র ১৮.৮০। ৬ ইনিংসে মাত্র ৯৪ রান করেছেন ভারতের এই সেরা ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অসিদের বিপক্ষে ৭৫.১৪ গড়ে ৫২৬ রান করেন কোহলি।
৭৫.০০: ভারতের বিপক্ষে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ব্যাটিং গড় ৭৫.০০। ১২৬ স্ট্রাইক রেটে ১২৪ বলে ১৫০ রান করেন তিনি। ভারতের দুই সেরা বোলার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার মিলিত ৭৮ বলে ১৫৮.৯৭ গড়ে ১২৪ রান করেন ম্যাক্সওয়েল।
৫: সিডনিতে ৮ ম্যাচ খেলে ৫টি ফিফটি করেছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। ১০১.১৫ স্ট্রাইক রেটে এবং ৫৪.৭৫ গড়ে এই মাঠে ৪৩৮ রান করেন তিনি। এছাড়া সিডনিতে শেন ওয়াটসন ও মাইকেল ক্লার্কের ব্যাটিং রেকর্ডও যথেষ্ট ভালো।

