স্পোর্টস ডেস্ক : নকআউটে রোমাঞ্চকর ও জমজমাট খেলার অপেক্ষায় ছিল ক্রিকেটবিশ্ব। কোয়ার্টার ফাইনালের একপেশে ম্যাচ দর্শকদের হতাশই করল। তবে সেমিফাইনালে এসে ক্রিকেটীয় রোমাঞ্চ বলতে যা বোঝাই মঙ্গলবার সেটির দেখা মিলল। বারবার পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ‘চোকার্স’ বানিয়ে ফাইনালে চলে গেল ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নিউজিল্যান্ড।
অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে মঙ্গলবার বিশ্বকাপের সপ্তমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে নামে নিউজিল্যান্ড। আগের ছয়বারই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কিউইদের। তবে সপ্তমবারের সেমিফাইনালটি তাদের জন্য ‘সত্যিকারের লাকি সেভেন’ হয়ে ধরা দিল। প্রথমবারের মতো দলকে পৌঁছে দিল ফাইনালের মঞ্চে। বিশেষ করে এর আগে ১৯৯২ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নিতে হয় নিউজিল্যান্ডকে। ২৩ বছর পর অকল্যান্ডের মাঠ ম্যাকালামদের হতাশ করেনি।
নিউজিল্যান্ডকে স্বপ্নের ফাইনালে তুলতে নায়কের ক্ষেত্রে ‘অবতীর্ণ’ হন তিনজন। তবে ৭৩ বলে ৮৪ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে অন্য দুজনকে ছাড়িয়ে যান গ্রান্ট ইলিয়ট। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও কোরি অ্যান্ডারসনের অবদানও কম নয়। মাত্র ২৬ বলে ৫৯ রানের ‘নান্দনিক’ ইনিংস খেলে অধিনায়ক ম্যাককালাম দলকে উড়ন্ত সূচণা এনে দেন। ৫৭ বলে সময়োচিত ৫৮ রানের ইনিংস খেলার পথে চতুর্থ উইকেটে ইলিয়টের সঙ্গে ১২১ রানের অসাধারণ জুটি গড়ে দলকে মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন অ্যান্ডারসন।
নিউজিল্যান্ডের সপ্তমবারের ফাইনালকে ‘লাকি সেভেন’ বলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই দক্ষিণ আফ্রিকাই কী-না সেমিফাইনালে তিন-তিনটি রান আউট মিস করল। বিশেষ করে ডি ভিলিয়ার্স ও উইকেটরক্ষক ডি কক যে দুটি রান আউট মিস করলেন তা এক-কথায় ‘অমার্জনীয়’। তাছাড়া কমপক্ষে দুটি সহজ ক্যাচ মিস করে প্রোটিয়ারা।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আজ ভাগ্যও কাজ করেছে। নইলে গোটা চারবার আউটের হাত থেকে কেন বেঁচে যাবেন ইলিয়ট? ২ বলে যখন ৫ রান দরকার তখন এই ইলিয়টই ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। কিউইরা ‘লাকি’ না হলে কেন গ্রান্ট ইলিয়টের আকাশে তুলে দেয়া বল ফারহান বিহার্দিন ক্যাচ নেয়ার পর ডুমিনির ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যাবে?
ছযবার বিশ্বকাপের সেমি থেকে খালি হাতে বিদায় নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। সপ্তমবারে এসে তাদের ‘গেরো’ খুলেছে। পেয়ে গেছে ফাইনালের টিকেট। টানা আট ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠা নিউজিল্যান্ড বিশ্বজয় থেকে এক কদম দূরে। ২৯ মার্চ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বেলকনিতে শিরোপা হাতে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য আর একটি জয় দরকার ম্যাককালাম-বাহিনীর।

