ঢাকাMonday , 23 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমাদের কেউ থামাতে পারবে না

Link Copied!

Ab-De-Villiersস্পোর্টস ডেস্ক : প্রথম রাউন্ডে বিদায় একবারই, ২০০৩ সালে। এছাড়া প্রতিটি বিশ্বকাপেই ন্যুনতম কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে প্রোটিয়া শিবির। এর মধ্যে তিনবার সেমিতেও উঠেছিল তারা। কিন্তু ফাইনাল এখনও স্বপ্নই থেকে গেছে। আর সে কারণেই চোকার্স শব্দটি এখনও সেটে আছে দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ে।
চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিতে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্বপ্নের ফাইনালের দেখা পাবে এবার প্রোটিয়া শিবির? নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, আবারো চোকার্সের অপবাদ নিয়ে মাথা হেট করে বিদায়।
অতীত ভুলে যান। তাকান সামনের দিকে। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবিডি ভিলিয়ার্স ভীষণ আত্ববিশ্বাসী। এই দল আগের যেকোন দলের চেয়ে নাকি বেশ পরিনত, বিধ্বংসি। আর তাই প্রোটিয়া অধিনায়ক বেশ দৃঢ় কণ্ঠেই বলেছেন, ‘আমাদের কেউ থামাতে পারবে না’। মানে চ্যাম্পিয়ন হবে তারা। সেমির বাধাও তারা সামলে নিবে দক্ষতার সঙ্গে।
গ্রুপ পর্বে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে হারলেও বাকি চার ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ আটে দক্ষিণ আফ্রিকা সহজেই জয় পায় গত বিশ্বকাপের রানার্স আপ শ্রীলংকার বিরুদ্ধে। এবার শেষ চারের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে দুরন্ত গতিতে আগানো নিউজিল্যান্ড। যারা এখন পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপে অপরাজিত। মঙ্গলবার বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে অকল্যান্ডে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও সহ-আয়োজক নিউজিল্যান্ড। তার আগে প্রোটিয়া অধিনায়ক ভিলিয়ার্স বলেছেন নিজেদের লক্ষ্যের কথা।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের আত্ববিশ্বাস তুঙ্গে। দল সঠিক সময়ে সঠিক কাঠামোতেই রয়েছে। এছাড়াও অনেক কারণ রয়েছে আমাদের আত্ববিশ্বাসের ব্যাপারে’। ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের পূর্ণ শক্তি বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে চলতি টুর্নামেন্টে আমাদের কেউ থামাতে পারবে না।
বিগত বিশ্বকাপগুলোতে এই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মোট ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে তাদের জয় ৪টি, হার ২টি। তারপরও অতীতের দিকে তাকাতে চাচ্ছেন না দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। চলতি বছরে দলের দুর্দান্ত ফর্মই ভিলিয়ার্সকে আশা জাগাচ্ছে রীতিমতো।
ভিলিয়ার্স বলেন, ‘বিগত বিশ্বকাপগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেভারিটের তকমা নিয়ে ভালো করতে পারেনি। তবে চলমান বিশ্বকাপে যুদ্ধ করার তীব্র মানসিকতা আমাদের রয়েছে। সব চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়াই হবে আমাদের মূল কাজ। আমরা জানি যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে শীর্ষে পৌছাতে পারব। একটি ক্রিকেট টিম হিসাবে আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে দল অনেক পরিশ্রম করেছে। তবে মঙ্গলবারের জন্য আমরা বেশ রোমাঞ্চিত ও সতেজও’।
এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচেও হারেনি নিউজিল্যান্ড। তবে ইনজুরির কারণে সেমিতে কিইউ শিবির পাচ্ছে না গতি তারকা অ্যাডাম মিলনেকে। তবে কোনকিছুই ভিলিয়ার্সকে উদ্বিগ্ন কিংবা আহ্লাদিত করছে না। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি এটা (মিলনের ইনজুরি) তাদের জন্য বড় ধাক্কাই। তবে তারা সেটা ঠিকই সামলে নেবে। তবে সত্যি কথা বলতে কি, আমরা আমাদের পারফরম্যান্সের দিকেই বেশী নজর দিচ্ছি।’
ভিলিয়ার্স শিক্ষা নিতে চাচ্ছেন গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকে। ইডেন পার্কে যেখানে পাকিস্তান ২৩২ রান করেও জিতেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইন আপ নিয়েও অলআউট হয়েছিল ২০২ রানে। সে কারণেই সেমিতে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আত্ববিশ্বাসের পাশাপাশি বেশ সতর্কও ভিলিয়ার্স। তবে তার দলে ইনজুরি সমস্যা নেই। যা ভিলিয়ার্সকে বেশ স্বস্তিই দিচ্ছে।
সেমির আগে আত্ববিশ্বাসে টগবগে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির। এর অনেক কারণও আছে। যা ভিলিয়ার্স প্রকাশ করেনি। তবে দলের দিকে তাকালে তা পরিস্কারই দেখা যায়। পরামর্শক হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ৫০ দিনের চুক্তি ছিল গ্যারি কাস্র্টেনের। বিশ্বকাপের মাঝপথেই চলে গিয়েছিলেন তিনি। তবে দল কোয়ার্টার ফাইনাল জেতায় কার্সে্টন আবারও চলে এসেছেন। দায়িত্ব শেষ হয়েও গেলেও ব্যাটিং পরামর্শক হিসাবে আবারও আনা হয়েছে মাইক হাসিকে।
আবার বিশ্বখ্যাত অভিযাত্রী মাইক হর্ন কোয়ার্টার ফাইনালের আগে থেকেই আছেন প্রোটিয়া শিবিরের সঙ্গে। আবার রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক সহকারী কোচ মার্ক ও‘ডোনেল। যিনি বর্তমানে কাজ করছে অকল্যান্ড ক্রিকেটে। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড বধ করার জন্য সব ধরনের চেষ্টাই করে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এত আয়োজন, এত উদ্যোগ- সবকিছুই আপাতত একটি ম্যাচকে ঘিরে।  এখন দেখার বিষয়, প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা ফাইনালে উঠতে পারবে তো ?