রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আলোচিত বরখাস্তকৃত উপ-পরিচালক সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আরও একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ উক্ত কর্মকর্তা সোহাগ মিয়া তার আয়করে সম্প বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেন। সোহাগ মিয়া জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগ খলে রাখে এবং দুর্নীতি ও ঘুষ সংঘটনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ সম্প অর্জন করার উদ্দেশ্যে রূপান্তর স্থানান্তর ও হস্তান্তর করায় ুর্নীতি দমন কমিশন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা তৎসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ কারণে আসামী সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে দুদক উক্ত মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর মামলা: ৪২, তারিখ: ৩০/০৯/২০২৫ইং। উক্ত সোহাগ মিয়া ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলি বর্ষন করে হত্যাকান্ডের মত জঘন্যতম অপরাধ সংঘটিত করে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে ডিএমপির মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে কিছু দিন কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি সোহাগ মিয়া জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও নানা অপরাধের জড়িয়ে পড়েন। তিনি ২০১১ সালে বাগেরহাট-১ আসনের প্রভাবশালী সাবেক সংস সদস্য শেখ হেলালের পিএস ওবায়েদুর রহমানের মাধ্যমে রাজউককে ম্যানেজ করেই সহকারি পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে উক্ত সোহাগ মিয়া নিজের নিরাপত্তার অজুহাত তুলে প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করে পিস্তলের লাইসেন্স হাতিয়ে নেন। সূত্র জানায়, নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে রাজউক চেয়ারম্যানের সামনে পিস্তল উঁচিয়ে তার প্রতিপক্ষকে ভয়া খোনোয় সোহাগ মিয়া পিস্তল সোহাগ হিসেবে আলোচনায় আসেন। এরপর থেকে তার পরিচিতি আসে পিস্তল সোহাগ হিসেবে। উক্ত সোহাগ মিয়া বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় শেখ হেলালের সঙ্গে তার গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। আর সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে রাজউকে র্দোন্ড প্রতাপ দেখাতে থাকেন। তার ভয়ে অনেকেই তটস্থ থাকতেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় গোয়েন্দা সংস্থা সহজেই তাকে পিস্তল পেতে সহায়তা করে। উক্ত পিস্তল সোহাগের আচরণ ছিল অত্যন্ত মারমুখী। তার অবৈধ ক্ষমতার দাপটে অনেক ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি আওয়ামী সরকারের কতিপয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। রাজউককে ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি হত্যা মামলায় জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে রাজনৈতিক রঙ পরিবর্তন করে বিএনপির ঘাড়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এদিকে ৬৩ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের হিসাব দিতে না পারায় অবৈধ সম্পদ অর্জন করায় রাজউকের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সোহাগ মিয়া ও তার স্ত্রী ওয়াজেফু তাবাসসুম ঐশীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। গত ৫ জুলাই দুদকের জনসংযোগ দফতর বিষয়টি নিশ্চিত করে। গত ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওয়াজেফু তাবাসসুম ঐশী ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। ওই বিবরণীতে তিনি মোট ৬৩ লাখ ১১ হাজার ২২২ টাকার অস্থাবর সম্পদ বা সঞ্চয়পত্রের তথ্য উপস্থাপন করেন। সেখানে দাবি করেন, ওই টাকা তার পিতা মো. ওয়াজেদ আলীর কাছ থেকে প্রাপ্ত। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার পিতা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। যিনি কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে ফোরম্যান পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি অবসরের সময় ভবিষ্যৎ তহবিল ও পেনশন বাবদ মোট ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫১ টাকা পেয়েছেন। এই অর্থ থেকে কন্যাকে দান, ঋণ বা অনুদান প্রদানের কোনো লিখিত বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায় নি। এমনকি আসামির বড় ভাই ওয়াহেদুস সাবা মিথুনকেও কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের নজির নেই। দুদকের অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ঐশী একজন গৃহিণী। তার নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস বা অর্থ উপার্জনের তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ২০২২ সালে তিনি আয়কর নিবন্ধন নিলেও কোনো আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র অনুসারে দুদক মনে করে তিনি ও তার স্বামী পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। এই কারণে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

