সরকারের স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিসিআইসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এন্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড, টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড, ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, ওসমানিয়া গ্লাস শীট ফ্যাক্টরি লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনসুলেটর এন্ড স্যানিটারীওয়্যার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, খুলনা হার্ড বোর্ড মিলস্ লিমিটেড, কর্ণফুলি পেপার মিলস্ লিমিটেড উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশ ইনসুলেটর এন্ড স্যানিটারীওয়ার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিআইএসএফ) এক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও খামখেয়ালিপনা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। স্বৈরাচারের পতন হলেও সরকারের অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে স্বৈরশাসকের প্রেতাত্মরা এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তে। গোপনে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিআইএসএফ-এ কর্মরত ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ফারুক হোসেন বিগত আওয়ামী আমলে যুুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরে ব্যবহার করে রাম রাজত্ব কায়েম করে নিজের ফাঁয়দা হাসিলে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি নিজের আপন বোন জামাইয়ের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে পর্দার আড়ালে থেকে মূলত তিনি নিজেই ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে এবং এখনও করছেন। এভাবে উক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। তবে তিনি এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তে এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে। যে কারণে প্রশ্ন উঠেছে, এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের খুঁটির জোর কোথায়। সূত্র নিশ্চিত করেছে উক্ত প্রভাবশালী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের আপন বড় ভাই বিসিআইসির প্রধান কার্যালয়ের অর্থ বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আব্দুর রাজ্জাক। যে কারণে বিআইএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিমও ফারুক হোসেনকে সমীহ করে চলেন। পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগের পরেও স্বেচ্ছাচারি উক্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করতে পারছেন না বিআইএসএফ’র এমডি রেজাউল করিম। অভিযোগের ব্যাপারে বিআইএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তিনিকাউকে আমলে নেন না। নানা অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-যে প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেড লাইসেন্স করা হয়েছে সেটি তার আপন ভগ্নিপতি আবু সারোয়ার সিদ্দিক বাবলুর। উক্ত ট্রেড লাইসেন্সের উল্লেখিত ঠিকানায় দৈনিক পাঞ্জেরীর এই প্রতিবেদক গিয়েও সত্যতা খুঁজে পাননি। সূত্র আরও জানায়, ফারুক হোসেনের আপন বড় ভাই বিসিআইসির অর্থ বিভাগের পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বিআইএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিমকে দেশী এন্টারপ্রাইজের নামে শ্রমিক নিয়োগের কাজটি পাইয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। অন্যদিকে উক্ত ফারুক হোসেন দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সদস্য সচিব থাকায় অন্যান্য কর্মকর্তারা ফারুক হোসেনের সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলার সাহস পাননি। আর এভাবে ফারুক হোসেন নিজের ক্ষমতা জাহির করে ব্যাপক আধিপত্য কায়েম করতে সক্ষম হন। ভুয়া কাগজপত্র সৃজন করে নতুন ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে মারাত্মক অপরাধের আশ্রয় নিলেও কেউ টু শব্দও করার সাহস পান না। কারণ তার রয়েছে বিশাল এক আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী। তিনি ঢাকা বিশ্ব ব্যিালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সেই ক্ষমতার দাপট এখনও দেখান। ব্যাংকের লেনদেন, চেক উত্তোলন, চেক জমা দেওয়া এবং শ্রমিকদের বেতনের যাবতীয় কার্যক্রম নিজের হাতেই রেখে দিয়েছেন। যাতে করে তিনি তার কমিশনের অর্থ হাতে রেখেই নির্বিঘ্নে অপরাধগুলাে সম্পন্ন করতে পারেন। এ কারণেই ধুরন্ধর এই কর্মকর্তা ফারুক হোসেন সব সময়ই থাকেন পর্দার আড়ালে। ফারুক হোসেনের নানা অপরাধের বিষয়টি জানাজানি হলে বিআইএসএফ-এ কর্মরত সচেতন কর্মকর্তা এবং কর্মচারিদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ সব অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ফারুক হোসেনের মোবাইলে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

