ঢাকাThursday , 16 October 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিজিটাল যুগেও কে–পপ সিডির জোয়ার: ভক্তদের আবেগই মূল চালিকা শক্তি

বিনোদন ডেস্ক
October 16, 2025 2:39 pm
Link Copied!

স্পটিফাই বা ইউটিউব মিউজিকের যুগে যখন সিডি বিক্রি প্রায় বিলুপ্তির পথে, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার কে–পপ শিল্পে চলছে এক উল্টো স্রোত। এখনও সেখানে সিডি অ্যালবাম বিক্রির ধুম লেগেই আছে।

গত ২২ আগস্ট নতুন অ্যালবাম কার্মা প্রকাশ করে হৈচৈ ফেলে দেয় জনপ্রিয় কে–পপ গ্রুপ স্ট্রে কিডস। অ্যালবামটি প্রকাশের প্রথম সপ্তাহেই শুধু দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্রি হয় ৩০ লাখ কপি—যা এক রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যাপক সাড়া ফেলে কার্মা; এক মাসে বিক্রি হয় প্রায় ৪ লাখ কপি।

সংগীত ডেটা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান লুমিনেট জানিয়েছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ১০টি অ্যালবামের মধ্যে ৭টিই ছিল কে–পপ অ্যালবাম। তালিকার শীর্ষে ছিলেন টেইলর সুইফট—তাঁর দ্য টর্চার্ড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট অ্যালবামটি বিক্রি হয় ১৫ লাখেরও বেশি কপি।

দ্বিতীয় স্থানে ছিল স্ট্রে কিডস–এর এইট (৪ লাখ ৪২ হাজার কপি)। তৃতীয় স্থানে এনহাইপেন–এর রোমান্স: আনটোল্ড (৩ লাখ ৬৩ হাজার কপি)। পঞ্চম স্থানে ছিল স্ট্রে কিডসের আরেক অ্যালবাম হোপ (২ লাখ ৪৮ হাজার কপি)। তালিকায় থাকা অন্যান্য কে–পপ গ্রুপের মধ্যে রয়েছে আটিজ, টুমরো এক্স টুগেদার (TXT) ও টোয়াইস।

কে–পপ অ্যালবাম এখনো বিক্রি হচ্ছে কেন?

কে–পপ সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ লিম হি–ইউন বলেন,

“যখন অনলাইনে সব গান সহজেই শোনা যায়, তখনও ফিজিক্যাল অ্যালবাম কেনা অনেকের কাছে অদ্ভুত মনে হতে পারে। কিন্তু কে–পপ ভক্তদের কাছে এটি শুধু সংগীত নয়—একটি আবেগ, এক ধরনের পরিচয়ের অংশ।”

তিনি জানান, ভক্তরা প্রিয় শিল্পীর সঙ্গে একধরনের আবেগপূর্ণ সংযোগ অনুভব করেন। ফলে অ্যালবাম কেনা তাঁদের জন্য শুধু গান সংগ্রহ নয়, বরং শিল্পীকে ভালোবাসার প্রকাশ।

অন্যদিকে, কে–পপ কোম্পানিগুলোর বিপণন কৌশলও এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। সাধারণ সিডির সঙ্গে থাকে ফটোবুক, ফটোকার্ড, এমনকি ফ্যান ইভেন্টের টিকিট—যা ভক্তদের অ্যালবাম কেনায় বাড়তি প্রণোদনা দেয়।

অ্যালবাম বিক্রির রাজা কারা

গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় সবচেয়ে বেশি অ্যালবাম বিক্রি করেছে সেভেনটিন।
তাদের এফএমএল ও ফেস দ্য সানসহ নানা অ্যালবাম মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৫–২৭ মিলিয়ন কপি।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্ট্রে কিডস (১৮–২০ মিলিয়ন),
তৃতীয় বিটিএস, চতুর্থ এনহাইপেন এবং পঞ্চম টুমরো এক্স টুগেদার (TXT)।

বিটিএস ও ব্ল্যাকপিঙ্ক কিছুটা পিছিয়ে আছে কারণ তারা কয়েক বছর ধরে নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেনি। বিশেষ করে ব্ল্যাকপিঙ্কের জনপ্রিয়তা এখন মূলত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীভূত।

অ্যালবাম বিক্রির উত্থান

গত পাঁচ বছরে কে–পপ অ্যালবাম বিক্রি প্রায় ৫০ কোটি কপি ছুঁয়েছে।
২০২১ সালে বিক্রি ছিল সাড়ে ৭ কোটি,
২০২৪ সালে ১১ মাসেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ কোটিতে।
২০২৫ সালেও বিক্রি ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ৫ অ্যালবাম (শেষ পাঁচ বছর)

এফএমএল – সেভেনটিন (২০২৩): ৬২ লাখ কপি
ফাইভ স্টার – স্ট্রে কিডস (২০২৩): ৫৪ লাখ কপি
সেভেনটিন্থ হেভেন – সেভেনটিন (২০২৩): ৫১ লাখ কপি
প্রুফ – বিটিএস (২০২২): ৩৫ লাখ কপি
কার্মা – স্ট্রে কিডস (২০২৪): ৩৪ লাখ কপি

তথ্যসূত্র: দ্য কোরিয়া হেরাল্ড, লুমিনেট, সার্কেল চার্ট ও হান্টেও