স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যাট হাতে একবার দাঁড়িয়ে গেলে ছক্কাবৃষ্টি শুরু হয়। বোলাররা দিশা খুঁজে পান না। এই বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েন বোলাররা সেটা ভালভাবেই বুঝেছে। ক্রিস গেইল কি করেছেন তামাম ক্রিকেট দুনিয়া দেখেছে। ২১৫ রান করে বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড গড়েন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল গ্যারি কারস্টেনের, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে।
গেইল ঝড় একবার উঠলে থামানো মুশকিল। সেটা বেশ ভাল করেই জানেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। আসলে গেইলের দিনে প্রতিপক্ষ বোলারদের কিছুই করার থাকে না। শনিবার ওয়েলিংটনে সেরকম কিছু ঘটলে নিউজিল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিশ্বকাপ বিসর্জন দিতে হবে।
এটাও ঠিক, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ২১৫ রানের ইনিংস ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে গেইল অনেকটাই নিষ্প্রভ। বিশ্বকাপে তার স্কোরগুলো এরকম, ৩৬ (আয়ারল্যান্ড), ৪ (পাকিস্তান), ৩ (দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং ২১ (ভারত)। কিন্তু ব্যাটসম্যানের নাম যখন গেইল জ্বলে উঠতে কতক্ষণ? তাই তরুণ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের বড় ভরসার নামও তিনি।
গেইল মাঠে থাকলে প্রতিপক্ষের উপর বাড়তি চাপ। অথচ সেই গেইলকে যদি কোয়ার্টার ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে না পাওয়া যায় সেটা অধিনায়কের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলবেই। ফিট থাকলে শনিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবশ্যই খেলবেন গেইল। হোল্ডারের আশা গেইল খেলবেন এবং তাকে স্বরুপেই দেখা যাবে, ‘ও বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাটসম্যান। সুতরাং ক্রিস দলে থাকা মানে বাড়তি সুবিধা। আমরা শুধু আশা করছি, গত একবছর ধরে ও যে পারফর্ম করে আসছে সেটা ধরে রাখবে।’ এরপর হোল্ডার যোগ করেন, ‘আমরা শেষ ম্যাচটি তাকে ছাড়াই জিতেছি। কাজেই আমি বলতে পারি না যে তাকে ছাড়া আমরা জিততে পারি না।’
দলে গেইলের প্রভাব কতটা সেটা নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান বুঝিয়ে দিলেন এভাবে, ‘ক্রিস ফিট থাকলে অবশ্যই খেলবে।’ লয়েড জানেন গেইল তার দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কোথায় নিয়ে যেতে পারেন। গেইলকে দেখে মনে হচ্ছে না পরের বিশ্বকাপেও তিনি খেলবেন। বয়স ৩৫ ছাড়িয়েছে। মনে রাখার মতো আরও কিছু করতে চাইবেন গেইল স্বাভাবিক। কারণ এই ম্যাচ হারলেই যে তাদের ক্যারিবিয়ানের ফ্লাইট ধরতে হবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে গেইল ওয়ানডে খেলেছেন ২৬৮টি। ৩৭.২৩ গড়ে রান করেছেন ৯১৬০। ২২ সেঞ্চুরির পাশে রয়েছে ৪৬টি ফিফটি। সবমিলে ছক্কা মেরেছেন ২৩০টি।

