স্পোর্টস ডেস্ক : সারাবছর ধরে দাপুটে ক্রিকেট খেলে বিশ্বকাপে গিয়ে অসার হয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯২ বিশ্বকাপ থেকে ২০১১ অবধি প্রোটিয়াদের তাই দেখা গিয়েছে। চরম প্রয়োজনীয় মুহৃর্তে ভেঙে পড়ে তাদের গায়ে সেটে গিয়েছে ‘চোকার্স’ তকমা। আর নিউজিল্যান্ড সম্পর্কে একটা বাক্য সবাই বলে দিতে পারেন, ওদের দৌড় তো ‘সেমিফাইনাল’ পর্যন্ত। প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই সেমিতে উঠেছে দলটি, কিন্তু কখনও ফাইনাল খেলার সৌভাগ্য হয়নি।
ক্রিকেট পণ্ডিতরা নিউজিল্যান্ডকে বলে থাকেন, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দল। অবস্থাদৃষ্টে যা মনে হচ্ছে, ব্রেন্ডন ম্যাককালামরা এবার সেমির গেড়োয় আটকে থাকবেন না। গ্রুপ পর্বে যেভাবে তারা জয়রথ ছুটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে, তাতে শনিবার খুব সহজে পার পাবে না দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
একের পর এক আগ্রাসী ক্রিকেট উপহার দিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকেই বদলে ফেলেছেন ম্যাককালাম। বদলে ফেলতে পারবেন কি কিউইদের বিশ্বকাপ ইতিহাস? নিউজিল্যান্ডের সামনে মোক্ষম সুযোগ। সবচেয়ে বড় কথা, ঘরের আঙিনায় বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্ব, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং এরপর সেমিতে উঠে গেলে তারা খেলতে পারবে ঘরের মাঠেই। শুধু ফাইনালটা খেলতে হবে মেলবোর্নে গিয়ে।
তাই কিউইদের পণ করা উচিৎ এবার নয়তো কখনোই নয়! এ কারণেই নিউজিল্যান্ড দল সদলবলে গিয়েছিল বিশ্বকাপজয়ী রাগবি দলের কাছে। তাদের কাছে হয়তো ম্যাককালামরা জানতে চেয়েছে, বিশ্বকাপ জয়ের রহস্য কী? কে জানে এখান থেকে আরও সঞ্জিবনী শক্তি পেয়ে থাকতে পারে নিউজিল্যান্ড। আর তো মাত্র তিনটি ম্যাচ। তাহলেই তো ছোঁয়া যাবে অধরা সেই বিশ্বকাপ ট্রফি।
তারপরও ম্যাককালামের কথা, আগ্রাসী ক্রিকেটের বেলায় কোন ছাড় নেই। বরং তিনি এটাকেই দেখছেন সাফল্যর মূলমন্ত্র হিসেবে। ম্যাককালাম বলেন, ‘আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই খেলতে চাই। এই মনোভাবই আমাদের অপরাজেয় দলে পরিণত করেছে।’
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লো স্কোরিং ম্যাচ ছাড়া বাকি সবগুলো ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। শনিবার ওয়েলিংটনে এই কাজটি আরেকবার করতে পারলে ম্যাককালামদের জন্য বিশ্বজয়ের পথটা অনেকটা সুগম হবে।
শনিবার মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড-ও. ইন্ডিজ

