বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল নার্সিং কলেজের একাডেমিক ভবনকে মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাস হিসেবে বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে কলেজের অধ্যক্ষসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ করে রেখেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার বেলা ১১টা থেকে বরিশাল শে-র-ই বাংলা মেডিকেল (শেবাচিম) কলেজ ক্যাম্পাসে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে দুপুরে মেডিকেল কলেজে নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জরুরি সভা করেছেন।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের কাছে ছয় মাস ওই ভবনে থাকার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় কোনোভাবেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না।
গত তিন দিন ধরেই বরিশাল নার্সিং কলেজের একাডেমিক ভবনকে মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাস হিসেবে বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিষয়টি কর্ণপাত করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
আর এ ঘটনার প্রতিবাদেই বুধবার বেলা ১১টা থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ সবকটি ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অধ্যক্ষ আলেয়া পারভীন এবং মেট্রোন মোসা. ফরিদুনেনছাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
এদিকে, কার্যালয়ের বাইরে চারপাশে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে ঘিরে রাখালেও গণমাধ্যম কর্মী ছাড়া কাউকেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। এমনকি প্রশাসনের কোনো কর্তাব্যক্তিকেও।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাবিনা আক্তার নামে একজন জানান, বুধবার সকালে নার্সিং কলেজের নবনির্মিত চার তলা একাডেমিক ভবন মেডিকেল কলেজের ছাত্রীদের জন্য পুলিশের সহায়তায় দখল নেয়া হতে পারে এমন আশঙ্কায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রতিবাদে নতুন একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।’
শিক্ষার্থীরা জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে তারা একটি পুরতন ভবনে থাকছেন। এ অবস্থায় তাদের নতুন ভবন অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। সঙ্গত কারণেই এই সিদ্ধান্ত বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
অবরুদ্ধ কলেজ অধ্যক্ষ আলেয়া পারভীন মুঠোফোনে জানান, গত ১৫ মার্চ স্বাস্থ্য মহাপরিচালক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ শে-র-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের সভায় নার্সিং কলেজের জন্য নবনির্মিত চারতলা একাডেমিক ভবন মেডিকেল ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ দেন। মূলত এ ঘটনার পরপরই বিষয়টি নার্সিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) গোলাম রউফ জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

