স্পোর্টস ডেস্ক : একসময় বর্ণবৈষম্যর কারণে ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে প্রোটিয়ারা ক্রিকেটে ফেরে ১৯৯২ বিশ্বকাপে। সেটা কতবছর আগের কথা? কিন্তু এ যুগে এসেও বৈষম্যের শিকার হতে হয়।
কী সাদাচোখে দেখা যাচ্ছে না? তাহলে বলি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের কুলীন পরিবারে ঢুকেছে সেই ২০০০ সালে। যোগ্যতা দিয়েই এই মর্যাদা প্রাপ্তি ঘটেছে বাংলাদেশের। মানলাম, তৎকালীন আইসিসি প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়ারও বাংলাদেশের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন ছিল। তার মানে, এই নয় যে- আমরা সারা পৃথিবী টেস্ট-ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পারবো, ভারতে পারবো না!
এটা বাংলাদেশকে কত বড় অপমান আর উপেক্ষা! অথচ, ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে লজ্জাজনক হারে বড় ধাক্কা খেয়েও ভারতীয়দের বোধোদয় ঘটেনি!
বরং উল্টো তারা অসার যুক্তি দেখান, বাংলাদেশ নাকি ভারতে খেললে গ্যালারি ভরবে না। বরং ভারতই মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে গিয়ে খেলে আসবে! টেস্ট স্ট্যাটাসপ্রাপ্তির ১৫ বছর হতে চললো। অথচ, বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানোর সৎসাহস কষনওই ভারতের হয়নি। এভাবেই চলছে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলো।
অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ডেরমত দেশগুলোতে গিয়ে মাশরাফি-তামিমরা খেলে আসতে পারেন, অথচ পাশের দেশে যেতে বারণ!
শুধু কি ২০০৭ বিশ্বকাপ? ভারতকে তো বাংলাদেশ ঝেটিয়ে বিদায় করে দিয়েছিল ২০১২ এশিয়া কাপেও। তারপরও বাংলাদেশের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) টালবাহানা করেই যাচ্ছে।
কবে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে টেস্ট খেলবে এর সুনির্দিষ্ট কোন দিনক্ষণ নেই। ওরা কখন ফাঁকফোকর বের করতে পারে তার ওপরই এটা নির্ভর করছে! তাদেও চিন্তা-চেতনায় একবারের জন্যও মনে হয় না, বাংলাদেশও টেস্ট খেলে!
এই উপক্ষোর জবাব দেওয়ার আরও একটা উপর্যুক্ত সময় এসে গেছে। বৃহস্পতিবার, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি)’র মাঠে ভারতকে আরেকবার ধরে দিয়ে মাশরাফিরা কি বলতে পারবেন, ‘দেখ আমরা তোমাদের দেশে খেলারা যোগ্যতা রাখি কি না?’
ভারতীয়দের উপেক্ষার শেষ এখানেই নয়। তামিম-মাশরাফি-মুশফিকরা আইপিএলে খেলার সামর্থ্য রাখলেও বারবারই তারা উপেক্ষিতই থেকে যান। কলকাতা নাইট রাইডার্সে নিয়মিত খেলছেন কেবল সাকিব আল হাসান। তামিমকে একবার পুনে ওয়ারিয়র্স দলে নিয়ে শুধু ঘুওে বেড়ানো হয়েছে, একবারের জন্যও মাঠে নামানো হয়নি।
তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাশরাফিকে নাইট রাইডার্স কিনলেও তাকে খেলানো হয়েছে মাত্র একটি ম্যাচে। অবশ্য তখন সৌরভ গাঙ্গুলির অবস্থা ছিল নড়বড়ে। জন বুকানন যা বলতো তাই হতো। বুকানন-ম্যাথ্যু মটদের রোষানলে পড়েছিলেন মাশরাফি!
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলের আইপিএল ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে এক ম্যাচ খেলেই। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আব্দুর রাজ্জাকেরও তাই।
এত এত উপেক্ষা! মাশরাফিরা কি পারবে সব উপেক্ষার জবাব মেলবোর্নে দিতে?

