ঢাকাSaturday , 14 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশে মোটরসাইকেলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম ওয়ালটন

Link Copied!

Waltonতথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : দেশে প্রতিবছর মোটরসাইকেলের চাহিদা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ। মোটরসাইকেলের বিশাল এ বাজারের অধিকাংশই দখলে রেখেছে ভারতীয় ও চীনা কোম্পানিগুলো। বিদেশ থেকে আমদানি করা সেই বাজারে টেক্কা দিতে পারছে না দেশি কোম্পানির তৈরি মোটরসাইকেল। অথচ দেশি কোম্পানির মধ্যে ওয়ালটন একাই বছরে উৎপাদন করছে তিন লাখ মোটরসাইকেল। যদিও তাদের সক্ষমতা রয়েছে প্রতিবছর ১০ লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদন করার। ওয়ালটনের পাশাপাশি আরো কয়েকটি দেশি প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেল উৎপাদন ও সংযোজন করে আসছে বাজারে।
এ পরিস্থিতিতে বাজারে দেশীয় মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়াতে করণীয় কি জানতে প্রতিনিধি মুখোমুখি হয়েছিল ওয়ালটনের ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিভাগের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিমের।
উদয় হাকিম বলেন, ‘বাংলাদেশের ভারতীয় মোটরসাইকেলের বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ভারতের বাজারে বাংলাদেশের মোটরসাইকেল ঢুকতেই পারছে না। কেননা, ভারতে মোটরসাইকেল রপ্তানি করার ক্ষেত্রে সে দেশের সরকার উচ্চহারে ট্যাক্স ধার্য করেছে। মোটরসাইকেল রপ্তানি করার ক্ষেত্রে ট্যাক্সের বোঝা সর্বোচ্চ ২০০ ভাগ পর্যন্ত দাঁড়ায়। এতে করে ভারতীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের পাল্লা দেয়া মুশকিল।’
তিনি বলেন, ‘এদেশের মোটরসাইকেলের যে পরিমান চাহিদা রয়েছে সেটা আমরা দেশীয় উৎপাদনকারীরা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারি। কিন্তু বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসনের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না।’
‘দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের সর্বাধিক প্রধান্য দেয়া উচিৎ’ জানিয়ে উদয় হাকিম বলেন, ‘বিদেশি মোটরসাইকেল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো এবং দেশীয় মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো উচিৎ। এতে করে দেশীয় উৎপাদনকারীরা গ্রাহকদের হাতে কম দামে ভালো মানের মোটরসাইকেল তুলে দিতে পারবে।’
উদয় হাকিম জানান, যারা এদেশে বিদেশি মোটরমোটরসাইকেল আমদানি করে গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি করছে তাদের নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী। তাই চাইলেও তাদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছে না দেশীয় মোটর বাইক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে অনেক মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই আর্থিকভাবে খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না।
উদয় হাকিম মনে করেন দেশীয় পণ্যের প্রসারের জন্য বিদেশি মোটরসাইকেল আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা কঠোর হওয়া উচিৎ।
মোটরসাইকেলের মান আরো উন্নত করার জন্য বিদেশি মোটর বাইক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় ব্যবসা করার ওয়ালটনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে উদয় হাকিম জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে জাপানি মোটর বাইক ইয়ামাহাও রয়েছে। কিন্তু ওয়ালটন চাইছে তাদের অটোমেকানিক্সের দ্বারা ডিজাইন করা নিজস্ব ঘরানার মোটর বাইক তৈরি ও বাজারজাত করতে। ওয়ালটনের মোটরসাইকেলের মানোন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা একদল নিবেদিত অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার।
ওয়ালটন তাদের মোটরসাইকেল উৎপাদনের জন্য শুধুমাত্র ইঞ্জিন বিদেশ থেকে আমদানি করছে। এছাড়া বাকি যন্ত্রাংশগুলো ওয়ালটনের গাজীপুরের কারখানায় উৎপাদন ও সংযোজন করা হচ্ছে। ওয়ালটনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে দেশেই ইঞ্জিন তৈরি করার। এজন্য প্রবাসী অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের এ কাজে নিয়োগ দেয়ার চিন্তা ভাবনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।
উদয় হাকিম আক্ষেপের সুরে জানান, ওয়ালটন বাজার সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখেছে, এদেশে এখনো দেশীয় মোটরসাইকেলের চাহিদা সেরকম গড়ে ওঠেনি। তাই প্রতিষ্ঠানটি এখনই বৃহৎ পরিসরে মোটরসাইকেল উৎপাদনে যেতে চাচ্ছে না। এ নিয়ে বাজার জরিপ ও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি মোটরসাইকেলের আগ্রাসন বন্ধ হলে এবং দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্কের বোঝা কমানো হলে ওয়ালটন বড় পরিসরে মোটরসাইকেল উৎপাদন কারখানা করবে।
ওয়ালটনের স্কুটার ঘরানার মোটর বাইক তৈরির পরিকল্পনা জানতে চাইলে উদয় হাকিম বলেন, ‘বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর অবস্থা এতোই এবড়োথেবড়ো যে, নারী চালকদের স্কুটার চালানো অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া শহরে প্রচুর মোটরসাইকেল চুরি হয়। এই কারণেও অনেকে মোটরসাইকেল কিনতে আগ্রহী নন।’
উদয় হাকিম একই কথা জানালেন ইলেকট্রিক বাইকের ব্যাপারেও। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘দেশে এমনিতেই বিদ্যুৎতের ঘাটতি রয়েছে। তার উপর ব্যাটারি চালিত ইলেকট্রিক বাইক বাড়তে থাকলে বিদ্যুৎতের চাহিদা বাড়বে। এর ফলে বাড়বে লোডশেডিংও। তাছাড়া ইলেকট্রিক চালিত বাইক চালানোর ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালাও নেই। ফলে সরকার ইলেকট্রিক বাইক তৈরি ও উৎপাদন করতে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। তাছাড়া এখনো এদেশে সেরকমভাবে ইলেকট্রিক বাইকের চাহিদা তৈরি হয়নি। ফলে আপাতত ইলেকট্রিক বাইক উৎপাদন করার কোনো পরিকল্পনা নেই ওয়ালটনের।’
জানা গেছে, ওয়ালটন শুধু মোটরসাইকলে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিয়েই ভাবছে না। প্রতিষ্ঠানটি দেশে গাড়ি উৎপাদনের চিন্তা ভাবনাও করছে। তবে সেটা এখনই নয়। কেননা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি পণ্য দেশের পাশাপাশি বিদেশেও সুনাম কুড়াচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশন, হোম অ্যাপলায়েন্সসহ নানা ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ।
দেশীয় মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ওয়ালটনের মোটরসাইকেলের কম দাম, জ্বালানি সাশ্রয়ী ইঞ্জিন, কিস্তিতে কেনার সুযোগ এবং দেশের আনাচে সার্ভিস সেন্টার থাকায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকশ্রেণী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
বাজারে ওয়ালটন মোটরসাইকেলের বেশ কয়েকটি মডেল রয়েছে। মডেলগুলো হলো- এক্সপ্লোর, ফিউশন, ক্রুজ,স্টাইলেক্স ও লিও। মডেলভেদে এগুলোর দাম ৬৯ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ওয়ালটন জানিয়েছে, অচিরেই ওয়ালটনে ১২৫ সিসির ফিউশন এনএক্স বাজারে আসছে।