শুক্রবার বিকালে কুমিল্লা থেকে লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান ট্রফি নিয়ে রাত ১০টায় মতিঝিলে ক্লাব টেন্টে পৌঁছায়। আগে থেকে খেলোয়াড়, কেচ, কর্মকর্তাদেরকে বরণ করে নেওয়ার একটা প্রস্তুতি ছিল। উচ্চ শব্দে প্রয়াত সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ফুটবল নিয়ে গান বাজছিল ক্লাবে। কিছু সমর্থকও ছিল। ক্লাবের স্টাফরা ফুলের পাপড়ি এনেছে ৩১ জন ফুটবলারের জন্য গাদা ফুলের মালা এনে প্রস্তুত রেখেছে। চ্যাম্পিয়ন কথা লিখে বড় ব্যানার লাগিয়েছে টিম বাসে দুটি ক্লাবে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাস বেড়ে যায়। খেলোয়াড়রা এক লাইনে দাঁড়াবেন, ক্লাবের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর সবাইকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করেন। কিন্তু সব ভেস্তে যায়। টিম বাস থেকে খেলোয়াড়রা নেমে এলে কিছু সমর্থক আর ক্লাবের দুই-এক জন সদস্য খেলোয়াড়দের নিয়ে টানাটানি করে টিভির ক্যামেরার দিকে নিয়ে গেলেন খেলোয়াড়দের চেয়ে যিনি টানাটানি করলেন, তাকেই সবাই দেখলেন ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান তখন বোর্ড রুমে। টিম বাস থেকে নেমে বিরক্তিকর চেহারা নিয়ে অধিনায়ক মালির ফুটবলার সুলায়মান দিয়াবাতে ট্রফি হাতে নিয়ে চলে গেলেন বোর্ড রুমে। কী কারণে তার মন খারাপ। ব্রাদার্সের বিপক্ষে জেতা ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছে। অনেকের খেলা তার পছন্দ হয়নি। চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছে বলে খেলায় ধারও কমে গিয়েছে। বোর্ড রুমে ফুঁসছিলেন ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আলমগীর। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর রহমতগঞ্জের কাছে হার এবং ব্রাদার্সের বিপক্ষে ড্র করাটা তারও ভালো লাগেনি। মুখ ফসকে বলেই ফেলেছেন কথাটা। তার পরও মোহামেডানের এই কর্মকর্তা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে সবাইকে কৃতিত্ব দিলেন। খেলোয়াড়, কোচ সবাই তার দাবিবার। সত্য কথা হচ্ছে, ১৭ জন পরিচালক মোহামেডানের। ট্রফি ঘরে তোলার সময় রাতে তেমন কাউকে দেখা গেল না। জোসি, সাব্বির, রিয়াজ, জনি প্রমুখ সবাই ছিলেন। ফুটবল চেয়ারম্যান কেক কেটে খাওয়াবেন চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দেরকে। কিন্তু সেখানেও কিছু পরিচিত মুখের ভিড়। খেলোয়াড়দেরকে পেছনে ঠেলে সামনের জায়গা দখল করে রেখেছেন। পেছনে ঠেলে দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনের কারিগর কোচ আলফাজ আহমেদকে। বার বার বলার পরও আলফাজকে সামনে আসতে দেননি তিনি। অন্যরাও ভিড়ে খেলোয়াড়রা পেছনে পড়ে যাচ্ছেন। এসব দেখে বিরক্ত হয়ে ফুটবল ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব ১০০ হাত দূরে চলে গেছেন। আজকের এই ট্রফি জয়ের পেছনে নকিবের অবদান অনেক এবং অনেক বেশি। ট্রফি নিয়ে ঘুমিয়েছেন দিয়াবাতে কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার মেসি যেভাবে ট্রফি নিয়ে উদযাপন করেছেন, ঠিক সেভাবেই দিয়াবাতে উদযাপন করেছেন। এমনকি শুক্রবার রাতে মোহামেডানের বোর্ড রুম থেকে দিয়াবাতে ট্রফি তার রুমে নিয়ে যান। গতকাল সারা দিন তার কাছেই ট্রফি রেখেছেন।মোহামেডানের ‘মহাপাগল’ চ্যাম্পিয়ন দলকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য গতকাল বিকালে ট্রফি আনতে লোক পাঠিয়েছিল মোহামেডান ক্লাবে। ট্রফি নিয়ে সন্ধ্যায় হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাখবে বলে। কিন্তু দিয়াবাতে ট্রফি দেননি। তিনি নিজে ট্রফি নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন। তাই ট্রফি কাউকে দেওয়া হবে না। দিয়াবাতে নিজের সমর্থকদের হাতে ট্রফি তুলে দিতে চেয়েছেন। ট্রফিতে মোহামেডান নামটা লেখেনি বাফুফে মোহামেডান লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো। ট্রফি তুলে দেওয়া হলো। ট্রফি নিয়ে ক্লাব টেন্টে ফেরার পর সমালোচনা হয়েছে। ট্রফির কোথাও লেখা নেই মোহামেডান। মোহামেডানের বোর্ড রুমে ট্রফি রাখা হলে সেখানে সবাই ভালো করে খুঁজে দেখেছেন, ট্রফির গায়ে ‘মোহামেডান প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন’ কথাটা লেখা আছে কি না। ফজলুর রহমান বাবুল, হাসানুজ্জামান বাবলু, ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর, সাবেক ফুটবলার রিয়াজসহ ট্রফি ঘিরে অনেকেই ছিলেন সেখানে। সবাই বলাবলি করছিলেন ট্রফির গায়ে কেন মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন কথাটা খোদাই করা হয়নি। সবার কথা শুনে ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর নিজে সত্য-মিথ্যা যাচাই করার জন্য ট্রফি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খুঁজছিলেন, আসলেই কি মোহামেডান নাম লেখা হয়নি। খুঁজে না পেয়ে তিনিও হতাশ। উপস্থিত লোকজন বললেন, বসুন্ধরা কিংস যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তাদের ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন কথা লেখা ছিল, তাহলে মোহামেডানের নামটা লিখে দিলে কী হতো। উপস্থিত একজন বললেন, মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এক সপ্তাহ আগে সাত দিন সময় পেয়েও কথাটা লেখার প্রয়োজন মনে করেনি বাফুফে। গতকাল রাতে পল্টনের একটি হোটেলে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানকে সংবর্ধনা দিয়েছে সমর্থকদের মহাপাগল সংগঠন। সবার আগে তারাই দিল সংবর্ধনা। তবে ক্লাবের তরফ থেকেও একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে আগামী ১ জুন। দেড় হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। ক্লাব থেকে জানানো হয়েছে ঈদের আগেই খেলোয়াড়দের বেতন বকেয়া যা কিছু রয়েছে, সব পরিশোধ করা হবে। খুব একটা বকেয়া নেই। বোনাসও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান। নতুন দল গঠন প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তারা বসবেন।

