নিজস্ব প্রতিবেদক : কেউ বিক্রয় প্রতিনিধি কেউবা অফিস সহকারী। অনেকেই আবার দোকানে ফুটফরমায়েশ খাটেন। কিন্তু একটা ব্যাপারে ওদের দারুণ মিল- এরা সবাই কম্পিউটারে পারদর্শী। নতুন কম্পিউটার অ্যাসেম্বল করা থেকে শুরু করে পুরনো কম্পিউটার সারাইয়ের সব কাজই জানেন ওরা। কিন্তু তাদের নেই কোনো প্রতিষ্ঠানিক ডিগ্রি।
বলা হচ্ছে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কম্পিউটার মার্কেটে কর্মরত কর্মীদের কথা। দীর্ঘদিন কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতে করতে খুঁটিনাটি অনেক কিছুই শিখে ফেলেছেন সাহেল। তিনি কাজ করেন অভি এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে। কিন্তু বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ দেয়া, হার্ডওয়্যার অ্যাসেম্বল করার কাজও করতে হয় তাকে। তিনি বলেন, ‘যদিও আমার কাজ পণ্য বিক্রি করা কিন্তু আমি একজন হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সব কাজই জানি। আমি নিজের চেষ্টায় এ কাজ শিখেছি।’
একই কথা জানালেন এএম কম্পিউটারের বিক্রয় প্রতিনিধি কামাল হোসেন। তিনি বছরখানেক ধরে কম্পিউটার পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত। কামাল জানান, কম্পিউটার পণ্য বিক্রি করতে গেলে এ বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হয়। নইলে ক্রেতাদের পণ্য সম্পর্কে ধারণা দিতে সমস্যা হয়। এই কারণেই সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ দেখতে দেখতে কাজটা রপ্ত করে ফেলেছেন।
একই সঙ্গে বিক্রয় প্রতিনিধি এবং সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন ফয়সাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই। পড়াশোনাটাও ঠিকমত করা হয়নি। কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহের কারণে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে চাকরি নেয়া। শুরুতে আমার কাজ ছিল পণ্য বিক্রি করা। ধীরে ধীরে আমি কম্পিউটার অ্যাসেম্বল করার কাজটি শিখতে শুরু করি। এখন সেলস এবং সার্ভিস দুটোই সামলাচ্ছি।’
ফয়সাল পরিকল্পনা করছেন টাকা জমিয়ে নিজেই একটা কম্পিউটার পণ্যের দোকান দেবেন।
একই মার্কেটের সাউথল্যান্ড কম্পিউটার লিমিটেড নামের দোকানে কাজ করেন আলাউদ্দিন। চার বছর আগে এখানে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। এখন সেলসের পাশাপাশি সার্ভিসিংয়ের কাজও করেন।
আলাউদ্দিন জানান, নতুন একটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সেটাআপের পুরোটাই তিনি জানেন। এমনকি কোনো কম্পিউটার অকেজো হলে সেটির সমস্যাও খুঁজে বের করতে পারদর্শী। তার কাজে সন্তুষ্ট তার কর্তাব্যক্তিরা।
সাউথল্যান্ড কম্পিউটার লিমিটেডের বিক্রয় কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘মাল্টিপ্যান সেন্টারে দোকানগুলোর বেশিরভাগ কর্মচারীই কম্পিউটারে পারদর্শী। এরা সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ দেখতে দেখতে কাজ শিখেছেন। এদেরকে প্রশিক্ষিত করতে পারলে এরা প্রযুক্তিখাতে দক্ষ জনশক্তি হয়ে নিজেদের তৈরি করতে পারতো।’
অভি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অভি জানান, কম্পিউটার পণ্যের দোকানে কাজ করতে গেলে কম্পিউটার সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকতে হয়। কিন্তু অল্প বেতনে তেমন কর্মী পাওয়া যায় না। ফলে নতুন কর্মীদের শিখিয়ে পড়িয়ে নেয়া হয়। যাদের আগ্রহ আছে তারা কম্পিউটারের খুঁটিনাটি অনেক কাজই শিখে নিচ্ছেন। এতে করে মালিকদের যেমন লাভ তেমনি কর্মীদেরও নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।

