চলতি আইপিএল আসর যেন এক অপ্রত্যাশিত দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে ট্রাভিস হেডের জন্য। তার দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের আরও তিনটি ম্যাচ বাকি থাকলেও, আগেই প্লে–অফের দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে দলটি। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি হেড। ১০ ইনিংসে তাঁর রান ২৮১, গড় ২৮.১০। বিশেষ করে শেষ চার ইনিংসে একবারও ৩০ ছুঁতে পারেননি তিনি। এই সময়ের মধ্যে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ১০৩.০৭—যা টি-টোয়েন্টির প্রেক্ষাপটে স্পষ্টতই হতাশাজনক। এর মাঝেই ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের কারণে আইপিএল সাময়িকভাবে স্থগিত হলে হেড ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ায়। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসায় আবারও মাঠে গড়ায় আইপিএলের বাকি অংশ, কিন্তু এবার বাধা হয়ে দাঁড়ায় করোনা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এখনও হায়দরাবাদ শিবিরে যোগ দিতে পারেননি তিনি। হায়দরাবাদের প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি গতরাতে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সোমবার (১৯ মে) রাতে লক্ষ্ণৌর অটল বিহারি বাজপেয়ী স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদের প্রতিপক্ষ লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস। তবে ট্রাভিস হেড ভারতে পৌঁছাতে না পারায় ম্যাচটিতে তাঁর খেলা হচ্ছে না। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে হায়দরাবাদ কোচ ভেট্টরি বলেছেন, ‘ট্রাভিস হেড আগামীকাল (আজ) সকালে আসবে। আসলে সে কোভিডে আক্রান্ত। এ কারণে আগে আসতে পারেনি। আসার পরেই আমরা জানতে পারব সে কেমন আছে। পুরোপুরি সেরে উঠলেই তাকে দলে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। আশা করছি পরের ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে।’ হেড কবে, কোথায়, কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, সে ব্যাপারে কিছুই জানাননি ভেট্টরি। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে করোনার যে নতুন দুই ধরন (এলএফ.৭ ও এনবি ১.৮) শনাক্ত করা হয়েছে, হেড সেখান থেকেই আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। কারণ, বিমানে ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া-আসার পথে সাধারণত সিঙ্গাপুর অথবা হংকংয়েই যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়। এদিকে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, করোনার এই নতুন ধরন দুটি ইতোমধ্যেই দেশটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৫ মের পর থেকে সেখানে অন্তত ৯৩ জন নতুন ধরনের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

