ঢাকাWednesday , 11 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশীয় অ্যাপস উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

Link Copied!

apps-তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মোবাইল। মোবাইল ফোনের ব্যবহার জীবনধারায় পরিবর্তন এনেছে। ফলে পারস্পরিক যোগাযোগ এখন অনেকটাই সহজ হয়েছে। মানুষের চিন্তা ও কাজে এসেছে গতি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ‘জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। আইসিটি বিভাগের সঙ্গে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এথিকস অ্যাডভান্স টেকনোলজি লি. (ইএটিএল)। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ মোবাইল অ্যাপস প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো বাংলা ভাষায় এবং বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় ও সামাঞ্জস্যপূর্ণ অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক পাঁচশ মোবাইল অ্যাপস তৈরি করা। এর মধ্যে তিনশ অ্যাপস সরকারের মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো তথ্য ও সেবার উপর এবং বাকি দুইশ অ্যাপস প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পাওয়া নতুন সৃজনশীল ধারণার উপর।
এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এ কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে, মোবাইল অ্যাপস তৈরিতে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি এবং তাদের জন্য চাকরি ও স্বাধীনভাবে কাজ করার কৌশল প্রদান। বাংলায় মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের জনসাধারণকে, বিশেষতঃ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সরকারি সেবা, নীতি ও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত করে সচেতন করা।’
তিনি বলেন, ‘উন্নয়নকৃত মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিতরণ ও যোগসূত্র স্থাপন এবং ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে একটি মোবাইল অ্যাপস উন্নয়নের নির্দেশিকা ও নীতিমালা তৈরি করা। এবং শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় অ্যাপস তৈরি করে তাদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার বিষয়ের উপর আ্যাপস তৈরি করে জীবনযাপনকে সহজ ও সাবলীল করা।’
কর্মসূচি সম্পর্কে আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার জানান, পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে ৪.৩ জন শিশু জন্ম নেয়। আর প্রতি সেকেন্ডে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ইনস্টল হয় ৮টি। বিশ্বের সবচেয়ে বর্ধিষ্ণু ডিভাইস স্মার্টফোন। এ ডিভাইসটি থাকা মানেই হাতের মুঠোয় পৃথিবী। তাই পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশকে চেনাতে মোবাইল অ্যাপসও উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। আর সেই বোধ থেকেই এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
ইএটিএল’র এমডি মুবিন খান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রযুক্তিকে পাথেয় করে একটি সমৃদ্ধ স্বদেশ বিনির্মাণ। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে কাজ করছে। একটি হোয়াটস অ্যাপ বিক্রি হয় ১৯ বিলিয়ন ডলারে। দেশেকে দ্রুত উন্নতির পথে নিয়ে যেতে এরকম কয়েকটি অ্যাপসের প্রয়োজন। আমরা আমাদের তরুণদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করবো যাতে করে তারা আগামী দিনে প্রযুক্তিকে জনগণের ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র দূরীকরণের হাতিয়ার করে তুলে।
মোবাইলে তথ্য বা বিনোদন আদান-প্রদান বা পরিবেশনের জন্য অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হয়, যা অ্যাপস নামেই বেশি পরিচিত। এই অ্যাপসকে ঘিরেই তথ্য প্রযুক্তির একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গেইম, সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন ইত্যাদি শ্রেণীতে ইতোমধ্যে লাখ লাখ অ্যাপস তৈরি হয়েছে যা মূলত বিভিন্ন মোবাইল প্ল্যাটফর্মের অনলাইন স্টোর, যেমন গুগল প্লে, আইফোন অ্যাপ স্টোর, নকিয়া স্টোর, উইন্ডোস মার্কেট প্লেস এ ব্যবহারকারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
সারাবিশ্বে প্রতি বছর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শতকরা ২৯.৮ ভাগ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সালের মধ্যে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪.৪ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে, এর বেশির ভাগ ব্যবহারকারী এশিয়া অঞ্চল থেকে। বাংলাদেশেও এর গর্বিত অংশীদার। এর কারণ অগ্রসরমান প্রযুক্তির স্মার্টফোন, স্বল্প মূল্য, এবং এর বহুমুখি ব্যবহার-উপযোগিতা। ডেস্কটপ কম্পিউটারের বেশির ভাগ কাজ স্মার্টফোনেই করা যাচ্ছে।
সময়ের প্রয়োজনে সারা পৃথিবীতে মোবাইল অ্যাপসের বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। ২০১২ সালে অ্যাপসের বাজার ছিল ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৩ সালে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের সরাসরি ডাউনলোড থেকে আয় হয়েছে ২৬ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে এই বাজার ৭৭ বিলিয়নের হবে। যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য এই বিলিয়ন ডলারের বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।
এছাড়াও অনলাইন স্টোরে প্রাপ্ত অধিকাংশ মোবাইল অ্যাপসই বিদেশি ভাষায় এবং বাংলাদেশের সমস্যা সমধানে বা প্রেক্ষাপটে তৈরি নয়। এ বিষয়টিও সরকারের এ কর্মসূচি গ্রহণ করার অন্যতম একটি কারণ। মোবাইল অ্যাপস ধারণাটি নতুন, আমাদের দেশে এখনো দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে। এজন্য দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি এই কর্মসূচীর আরেকটি উদ্দেশ্য।
দেশের ৭টি বিভাগের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পৃক্ত করে নির্বাচিত ৫০০ জনকে ১৭টি ব্যাচে ৩ মাসব্যাপী অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ্সের নকশা, উন্নয়ন, ও টেস্টিং এ দেশি ও বিদেশি প্রশিক্ষক দিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচী’ তে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মেধার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণের ভেন্যু হিসেবে ঢাকায় ৮টি, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনায় ২টি করে এবং সিলেট, বরিশাল ও রংপুরে ১টি করে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেয়া হয়েছে। এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অ্যাপস ডিজাইনার, ডেভেলপার এবং টেস্টারদের বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। যাতে কর্মসূচি শেষে তারা দেশে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাজার হাজার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরিতে সহয়তা করবে। উন্নয়নকৃত মোবাইল অ্যাপসগুলো দেশে EATL APP STORE ও আন্তর্জাতিকভাবে GOOGLE PLAY – তে রাখা হবে যাতে ব্যবহারকারীরা নিজ নিজ মোবাইলে বিনামূল্যে ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে পারে।
এ কর্মসূচি সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে ভিজিট করুন www.ictd.gov.bd