স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজে শ্রীলংকার পারফরম্যান্স ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল লংকান সমর্থকদের। কারণ টেস্ট-ওয়ানডে দুই সিরিজেই নাকানিচুবানি খেতে হয়েছিল অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দলকে। শ্রীলংকার বিশ্বকাপ শুরুটাও হয়েছিল একরাশ হতাশা দিয়ে। এরপর দিন যত গড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিজেদের উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে লংকানরা। পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান এখন দুই নম্বরে। অন্যদিকে দুর্দান্ত শুরু করা অস্ট্রেলিয়ার ছন্দপতন ঘটিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের সমান ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৫। নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় অসিদের অবস্থান দুই নম্বরে। তার মানে রোববার সিডনিতে লড়াই হবে দুই-তিনের। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়।
বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। এরপর শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হয়েছে মাইকেল ক্লার্কের দলকে। তাই আত্মবিশ্বাস খানিকটা তলানিতে গিয়েছে অসিদের। খারাপ শুরু করা শ্রীলংকার টপ অর্ডার দুর্দান্ত ফর্মে আছে। সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিলকরত্নে দিলশান, মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা এবং লাহিরু থিরিমান্নে। অস্ট্রেলিয়ান পেসের সামনে তাদের ব্যাটিংকে যে সমস্যায় পড়তে হবে সেটা না বললেও চলে। বল হাতে আগুনে ফর্মে আছেন মিচেল জনসন-মিচেল স্টার্করা।
কিন্তু লংকান দলে সবচেয়ে সিনিয়র মাহেলা জয়াবর্ধনের মনে হচ্ছে, তাদের পেস নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তার ভাষায়, ‘পেস বল তো করাই যায়। কিন্তু লাইন-লেংথ ঠিক না থাকলে যত গতিতে বল করবে সেই পেসারের বিপক্ষে তত রান উঠবে। এটা ঠিক যে, অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা ভাল বল করে। এই বিশ্বকাপে আমরাও অনেক পেসারকে মোকাবেলা করেছি। অস্ট্রেলিয়ার চ্যালেঞ্জটা নিতে আমরা উন্মুখ হয়ে আছি। মিচেল স্টার্ক ভাল বল করছে। মিশেল জনসন তো দুর্দান্ত।’
তবে নিজেদের ব্যাটিংয়ের প্রতি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস আছে জয়াবর্ধনের। আর এ বিশ্বাস থেকে অসি পেসারদের খুব একটা ভয় পাচ্ছেন না জয়াবর্ধনে, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গত ১২-১৮ মাস হলো আমাদের টপ অর্ডার প্রচুর রান করেছে। গত দু’বছর ধরে বিশ্বের সেরা দশ ব্যাটসম্যানের তালিকা করলে সেখানে শ্রীলংকার তিন-চারজনকে রাখতেই হবে। গত বছরটা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দারুণ গিয়েছে। আমরা তাই ভীষণ আত্মবিশ্বাসী।’
পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে লাহোরের ফাইনালের পর শ্রীলংকার সাথে অস্ট্রেলিয়ার দেখা হয়েছে পাঁচবার। এরমধ্যে চারবারই হারতে হয়েছে লংকানদের। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানকে বড় করে দেখছেন না জয়াবর্ধনে। তিনি বলেন, ‘শুধু শ্রীলংকা কেন, বিশ্বকাপে সব দলের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ব দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আমাদের বিশ্বকাপ রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে খুব একটা খারাপ নয়। আমরা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল আর একটি সেমিফাইনাল খেলেছি। হ্যাঁ, ওদের বিপক্ষে আমরা কয়েকটি ম্যাচ হেরেছি। ২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যাচটিতে আমরা জয়ের কাছে গিয়েও জিততে পারিনি। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে গেলাম। ওরা ভাল দল। বড় টুর্নামেন্টে আসল ব্যাপার হলো চাপ সামলানো।’
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) শেষ আট ম্যাচের ছয়টিতে জিতেছে শ্রীলংকা। এই টুর্নামেন্টে সাঙ্গাকারাই একমাত্র ব্যাটসমান যিনি দুটি সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। দলগতভাবে পাঁচটি সেঞ্চুরি এসেছে লংকানদের। যেটা অন্য কোন দল করতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়া (সম্ভাব্য): অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, শেন ওয়াটসন/মিচেল মার্শ, ব্রাড হাডিন, জেমস ফকনার, মিচেল জনসন, মিচেল স্টার্ক এবং হ্যাজেলউড/জাভিয়ের ডোহার্টি।
শ্রীলংকা (সম্ভাব্য): লাহিরু থিরিমান্নে, তিলকরত্নে দিলশান, কুমার সাঙ্গাকারা, দিনেশ চান্দিমাল, মাহেলা জয়াবর্ধনে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (অধিনায়ক), উপল থারাঙ্গা/সচিত্রা সেনানায়েকে, থিসারা পেরেরা, সেকুগে প্রসন্ন, লাসিথ মালিঙ্গা এবং সুরঙ্গা লাকমল।

