লবিং গ্রুপিংয়ে স্তবিরতা বিরাজ করছে এলজিইডিতে। একে অপরকে ঘায়েল করে রাজনৈতিক ট্যাংগ লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রকৌশলী সংস্থার কার্যক্রমে গতিশীলতার পরিবর্তে গতিহীনতা বিরাজ করছে। এলজিইডিতে বিপুল সংখ্যক মেধাবী ও চৌকস প্রকৌশলীদের রাজনৈতিক রং লাগিয়ে একে অপরকে ঘায়েল করছে। এতে দল নিরপেক্ষ মেধাবী প্রকৌশলীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এলজিইডি রাস্ট্রীয় অবকাঠামো এবং গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য প্রকৌশলী সংস্থা হলেও স্বৈরশাসকের আমলে অনেকটাই দলীয়করণের ফলে মেধাবী প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কিন্তু মেধাবী, চৌকস ও দল নিরপেক্ষ প্রকৌশলীরা বলছেন বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা পালন করে চলছে এলজিইডি। সুতরাং রাজনৈতিক দলাদলির উর্ধ্বে উঠে সকল প্রকৌশলীকে সহনশীল আচরণ করতে না পারলে প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এলজিইডিতে দুর্নীতিবাজদের পাশাপাশি সৎ, নির্ভীক, দক্ষ, নিষ্ঠবান এবং দেশপ্রেমিক প্রকৌশলীর সংখ্যাও কম নয়। তবে চিহ্নিত কতিপয় দুর্নীতিবাজদের কারণে এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি বিগত সরকারের আমলে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তবু্ও বৈষম্যের শিকার প্রকৌশলীগণ রাজনৈতিক দলাদলি বন্ধে এলজিইডির শীর্ষ প্রকৌশলীদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রকৌশলী দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ছাত্র জীবনে অনেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পেশাগত ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব মনোভাব দেখাতে না পারলে রাষ্ট্র যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমুখী সংস্থাগুলো আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে এলজিইডিতে যারা এখন লবিং গ্রুপিং করছেন নিজেদের স্বার্থে তাদের থামিয়ে দেওয়া দরকার বলে মনে করেন বোদ্দামহল। এখানে আওয়ামীপন্থী কিংবা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রকৌশলীরা বর্তমানে রাজনৈতিক কারণে কোন ঠাসা থাকলেও প্রকৌশলী মনজুর আলী এবং প্রকৌশলী জাভেদ করিমের নেতৃত্বে দুইটি গ্রুপ বেশ তৎপর রয়েছে। লবিং গ্রুপিংয়ের কারণে এলজিইডিতে প্রকাশ্যে একে অপরের পক্ষালম্বন করে কুৎসিত সমালোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এতে সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন অন্যরা। এদিকে এলজিইডির দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকৌশলী জাভেদ করিম অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, কর্মঠ এবং বিনয়ী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাও তার কার্যক্রমে রয়েছে। পাশাপাশি প্রকৌশলী মনজুর আলীও অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে অতীতে সুগভীর সম্পর্কও বিদ্যমান ছিলো। তাহলে এদের মধ্যে আজ কেন দূরত্ব বিরাজমান? তাদের সুগভীর সম্পর্কে কারা ফাটল ধরিয়েছে এমন প্রশ্ন এখন সকলের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। সূত্র জানায়, কয়েকজন দুষ্টু প্রকৃতির নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারি প্রকৌশলীগণ উল্লেখিত প্রকৌশলীদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত। তারাই প্রকৌশলী জাভেদ করিম এবং প্রকৌশলী মনজুর আলীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। ঐ দুষ্টু প্রকৃতির প্রকৌশলীরা বিভিন্ন সময়ে বাজে মন্তব্য করে তাদের কান ভারি করে তুলেছেন। যে কারণে তাদের মধ্যে আজ মুখ দেখাদেখিও অনেকটা বন্ধ। বোদ্দামহল বলছেন, এলজিইডির বৃহত্তর স্বার্থে এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বিভেদ ভুলে এক কাতারে সবাইকে এনে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সচেতন মহলের মতে, এলজিইডি সদর দপ্তরসহ মাঠ পর্যায়ে সারা দেশে প্রকৌশলী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারিদের মধ্যে সহনশীল মনোভাব সৃষ্টি না হলে প্রতিষ্ঠান মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

