বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ) দেশে পিছিয়ে থাকা ও দারিদ্র্যসীমার নীচে অবস্থান করা জনগণকে উন্নয়নের মূলস্রোতে নিয়ে আসা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান করে। ৩০ অক্টোবর বিএনএফ এর সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১১টি সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দের হাতে ৯.৩৫ কোটি টাকা প্রণোদনা ঋণ এবং ৪৬টি সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দের হাতে নিয়মিত অনুদান হিসেবে ১৩১.২৫ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। নিয়মিত অনুদানে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ, নলকূপ স্থাপন, ভ্যান, গরু, ছাগল, ভেড়া ও বাইসাইকেল, মৌচাষ ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ ও উপকরণ, হস্তশিল্পের উপর প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ, তাঁতীদের উপকরণ সহায়তা, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ছানি অপারেশন ও চক্ষুসেবা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, পরিবেশ বান্ধব উন্নত চুলা নির্মাণ, ইত্যাদি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বিতরণকৃত ১৩১.২৫ লক্ষ টাকার অনুদানে ২,৪৮৫ জন মহিলা এবং ২,০০৭ জন পুরুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনএফের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল আহসান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবীক্ষণ উপদেষ্টা এ, কে, এম, আবদুছ ছালাম। সভাপতিত্ব করেন বিএনএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জিল্লুর রহমান এনডিসি। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনএফের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। সভায় উপস্থিত সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত ব্যক্ত করেন। পরিবীক্ষণ উপদেষ্টা জনাব এ, কে, এম, আবদুছ ছালাম সহযোগী সংস্থাকে আর্থিক বিষয়সহ অফিসের ডকুমেন্টসমূহ সঠিকভাবে মেইনটেইন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। সভার সভাপতি ও বিএনএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, উপকারভোগীকে উপকরণ দেওয়ার আগে উপকারভোগীকে সে সকল উপকরণ ব্যবহারে সক্ষমতা আছে কি না তা যাচাই করার পরামর্শ প্রদান করেন। উপকারভোগীর সক্ষমতা যাচাই না করে উপকরণ দেওয়া হলে বিএনএফ এর উদ্দেশ্য সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন। তিনি উপকারভোগীকে উৎসাহ প্রদান করা এবং কর্মসূচি নিবিড়ভাবে ফলোআপ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। সভার প্রধান অতিথি জনাব মোঃ রেজাউল আহসান সহযোগী সংস্থাকে আর্থিক বিষয়াবলীর যথাযথ নিয়ম পরিপালন করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার উপর জোর দেন। যে সকল জেলায় বিএনএফের সহযোগী সংখ্যা তুলনামূলক কম আছে সে সকল জেলা হতে এনজিও অন্তর্ভূক্ত করা হবে বলে মত প্রকাশ করেন। উপকারভোগীগণ বিএনএফ হতে সহায়তা পেয়ে যাতে উপকৃত ও জীবনমানের উন্নতি হয়ে থাকে সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য সহযোগী সংস্থাকে পরামর্শ প্রদান করেন। দেশের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংখ্যাসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় সহযোগী সংস্থাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে একটি স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অর্থে সুবিধাবঞ্চিত জনগণের দারিদ্র্যবিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ের সহস্রাধিক সহযোগী সংস্থা (এনজিও) এর মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে।

