বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ডিবির লালবাগ জোনের সাবেক ডিসি মশিউর রহমান ও এডিসি মোস্তফা কামালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার অন্য তিন আসামি হলেন- ডিবির কোতোয়ালি জোনের সাবেক এডিসি ইয়াসির আরাফাত, লালবাগ জোনের পুলিশ পরিদর্শক শের আলম ও পুলিশের এসআই পলাশ চৌধুরী দীপন। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরোবিয়া খানমের আদালতে ভুক্তভোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মীর আশরাফ আলী আজম বাদী হয়ে এই মামলার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত সাপেক্ষে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির রায়হান জসিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিষয়ে বাদী মীর আশরাফ আলী আজম বলেন, এডিসি মোস্তফা কামাল আমার ওপর পাশবিক নির্যাতন করেছে। আমার কোমরের হাড় ভেঙ্গে ফেলেছে। আমার দোষ ছিল আমি বিএনপি করি। আমি এর বিচার চাই। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের ২৭শে জুলাই বাদী সাবেক কাউন্সিলর আশরাফ আলী আজম বাসায় ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় ডিবি লালবাগ জোনের তৎকালীন ডিসি মশিউর রহমান এবং এডিসি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে বাকি আসামিসহ ২০ থেকে ২৫ জন ডিবি পুলিশ ঘেরাও করে। এরপর দারোয়ানকে মারধর ও কেচি গেইটের তালা ভেঙ্গে বাসায় প্রবেশ করে। বাসায় থাকা স্ত্রী ও ছেলে ব্যারিস্টার মীর মুহতাসিমের সামনে বাদী মীর আজমকে টেনে হিঁচড়ে বের করে। বাদী যেতে না চাইলে দুই তালার বাসার দরজা থেকে মারধর ও ধাক্কা দিয়ে সিঁড়িতে ফেলে দেয়। এসময় সাবেক কাউন্সিলর মীর আলী আজমের কোমরের হাড় ভেঙ্গে যায়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় দীর্ঘ ৬ মাস ধরে চিকিৎসাধীন থেকে একটু সুস্থ হলেও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে অক্ষম অভিযোগ করেন বাদী। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪৪৭/৪৪৮/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

