স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, ছাত্র জনতার উপর গুলি বর্ষনকারি ও নির্দেশদাতা হারুন অর রশীদ এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত যুগ্ম সচিব হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ২৮, তারিখঃ ২৮/০৮/২০২৪ইং, ধারাঃ ৩০২/১০৯/১১৪ দণ্ডবিধি। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বেলা আনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার চিটাগাং রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার মিছিলে ইমন হোসেন গাজী অংশ গ্রহণ করে। এ সময় স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আনসার অধিশাখার যুগ্ম সচিব হারুন অর রশীদ গংরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত ছাত্র জনতার উপর সংগীয় ফোর্সসহ তাদের অনুগত বাহিনী দিয়ে অতর্কিত আক্রমন চালায়। এ সময় তারা সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, শর্টগান ও পিস্তল দিয়ে ব্যাপক গুলি বর্ষনও করে। এছাড়া ককটেল এবং হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সংঘবদ্ধ আসামীদের গুলি বর্ষনের ফলে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন গাজীর ভাই ইমন হোসেন গাজী গুলিবিদ্ধ হন। মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন গাজী আরও বলেন, তার ভাই ইমন হোসেন গাজীসহ অনেকেই ঘটনাস্থলে আসামীদের নিক্ষিপ্ত গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং অনেকেই গুরুতর আহত হন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছাত্র জনতা গুলিবিদ্ধ ইমন হোসেন গাজীসহ অন্যান্যদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমন হোসেন গাজীকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। ঐদিন বিকাল আনুমানিক ৪ ঘটিকার সময় ইমন হোসেন গাজীর স্ত্রী শান্তি বেগম লোকমুখে ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তার স্বামী ইমন হোসেন গাজীর মৃত্যুদেহ সনাক্ত করেন। যুগ্ম সচিব হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালিন সরকারকে উৎখাতেও ইন্ধন রয়েছে বলে একটি সূ্ত্র জানায়। সচিবালয়ের সামনে আনসার সদস্যদের জড়ো করে তাদের দিয়ে কৌশলে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী সরকারের প্রেতাত্মা হয়ে বর্তমানে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে উক্ত হারুন অর রশীদ। এ কারণে যুগ্ম সচিব হারুন অর রশীদকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবী উঠেছে সব মহলে।

