সমবায়ের মাফিয়া খ্যাত আগষ্টিন পিউরিফিকেশন সমবায় আইন, বিধি, দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ(কালব) এর উপ-আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী; কালবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ছিলেন। অথচ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের সহায়তায় আইন-আদালত পদদলিত করে কালব দখলে নেয়। অনুরূপ সমবায় আইন,বিধি অনুযায়ী টানা ৩ মেয়াদের বেশি ব্যবস্থাপনা কমিটিতে থাকা যায় না। অথচ উপরোক্ত সাবেক দুই মন্ত্রীর ক্ষমতাবলে আইন ও বিধি লংঘন করে দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডে চতুর্থ মেয়াদে অবৈধভাবে চেয়ারম্যান পদ দখল করে রেখেছেন। এই দু’টি সমবায় সমিতি লুটপাট করে আগষ্টিন কয়েক হাজার কোটি টাকা বানিয়েছেন। এককালের সবজি বিক্রেতা, দর্জি ও জমির দালাল মাফিয়া আগষ্টিন আমেরিকায় বাড়ি ক্রয়সহ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত থাকায় উক্ত সমিতি দুটোর সদস্যরা আগষ্টিনের বেআইনী কাজের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাননি। এমনকি জেল জুলুম, গুম, খুনের ভয়ে কেউ আইনের আশ্রয় নিতেও সাহস পাননি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আগষ্টিনের আশ্রয়দাতা দুই মন্ত্রী পলাতক। সমবায়ীরা ভেবেছিল এবার বুঝি সমবায় মাফিয়ামুক্ত হবে। আগষ্টিনের অত্যাচার থেকে সমবায়ীরা মুক্ত হবে। সরকার পতনের পর বৈষম্য বিরোধী খ্রীষ্টান সমাজ নামের একটি সংগঠন সমাবেশ আয়োজন করে উক্ত সমিতিদ্বয় থেকে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারি আগষ্টিনের অপসারণ দাবি করেছেন। অনুরূপ বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি আলবার্ট পি. কস্তা এক বিবৃতিতে আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রেতাত্মা আগষ্টিনকে সমিতি থেকে অপসারণ করার দাবি করেছেন। তা আর হলো না। অশিক্ষিত তবে অতি চতুর আগষ্টিন নিজেকে রক্ষার জন্যে রাজনৈতিক ডিগবাজি দিয়েছেন। দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের কার্যালয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের যে ম্যূরাল স্থাপন করেছিলেন; আওয়ামী সরকারের পতনের পর সেই ম্যূরাল আবার ভেঙ্গে ফেলেছেন। তেজগাঁও, টঙ্গী ও কালীগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে হাত মিলিয়েছেন। তাদের উপহার, উপঢৌকন ও মাসোহারা দিয়ে নিজের আশ্রয় নিশ্চিত করছেন। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক সমন্বয়কের সাথে হাত মিলিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। কতিপয় পুলিশ সদস্য ও বিএনপি নেতাদের তিনি কালবের রিসোর্টে নিয়ে নিয়মিত নানা বিনোদনের ব্যবস্থা করছেন।
আগষ্টিনের সকল অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ দিনের আলোর মত সত্য ও পরিস্কার। যা নিয়ে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে দীর্ঘদিন থেকে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। আগষ্টিনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদন সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধেও মাফিয়া আগষ্টিনের কালো টাকা দেয়াল তৈরী করেছে। সাংবাদিকদের হামলা-মামলার হুমকি দিয়ে কাজ না হওয়ায়; লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেছেন একদল সাংবাদিক। টাকার জোরে আগষ্টিন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লেলিয়ে দিয়েছেন। কথায় আছে-কাকের মাংস কাকে খায়না। অথচ টাকার লোভে কতিপয় সাংবাদিক এই নীতিবাক্য ভুলে গেছেন। আগষ্টিনের পক্ষে পেইড সাংবাদিকতা করছেন। সত্য ও বস্তনিষ্ঠ সংবাদকে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ আখ্যা দিচ্ছেন। ‘তথ্য সন্ত্রাস’ বলার চেষ্টা করছেন। আবার ‘নাম সর্বস্ব পত্রিকা’ আখ্যা দিয়ে নিজেরাই নাম সর্বস্ব পত্রিকায় আগষ্টিনের পক্ষে মিথ্যা সাফাই গাইছেন। শত অপরাধে অপরাধী, সমবায়ে দখলদার, অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মাফিয়া আগষ্টিনকে লেখনীর মাধ্যমে ‘মহামানব’ বানানোর অপচেষ্টা করছেন। এ যেন চোরের সাক্ষী ‘মাতবর’। প্রচারে দানবও মানব হিসেবে পরিচিতি পায়। আবার দশচক্রে ভগবানও ভূত হয়। তবে সেটা সাময়িক। সত্য সূর্যের আলোর মত। মেঘ কেটে গেলে সব পরিস্কার হয়ে যাবে। অতএব পেইড সাংবাদিকতা দিয়ে আগষ্টিনদের মত মুখোশধারী অপরাধীদের শেষ রক্ষা হয় না। অতীতে যার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। কোনটা হলুদ সাংবাদিকতা আর কোনটা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা তা ভবিষ্যতই বলে দিবে। কেবল সময়ের অপেক্ষা।

