কারাগারে শুয়ে বসে দিন পার করছেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। বর্তমানে তাকে রাখা হয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জেল কোড অনুযায়ী, ওসি প্রদীপ ডিভিশন সুবিধা পেতেন। তবে রায়ের পর অর্থাৎ ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় ডিভিশন সুবিধা বাতিল হয়ে যায় প্রদীপের। বর্তমানে সাধারণ কয়েদিদের মধ্যে থাকছেন ওসি প্রদীপ। আত্মীয় স্বজন কেউ দেখা করতে আসছেন না। রাত-দিন অনেকটা শুয়ে-বসেই দিন কাটছে তার। এখনো অনুতপ্ত নন ওসি প্রদীপ, তবে ফাঁসিতে ঝুলতে হবেই, এমন শঙ্কা ভর করেছে তার মনে। তার সঙ্গে একই কারাগারে রয়েছেন পরিদর্শক লিয়াকত আলীও। তিনিও একইভাবে দিন পার করছেন। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, কারাগারে চুপচাপ আছেন ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলী। খাওয়া-দাওয়া আর শুয়ে-বসে সময় পার করছেন তারা। ফাঁসির আসামি হওয়ায় বর্তমানে তিনি ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন না। ওসি প্রদীপের আত্মীয়রা সাক্ষাৎ করতে যান কি না জানতে চাইলে সিনিয়র জেল সুপার বলেন, স্বাভাবিক যে নিয়ম তাতে মাসে একবার সাক্ষাৎ করতে পারবেন কয়েদির আত্মীয়রা। তবে ওসি প্রদীপের কোনো আত্মীয় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন না। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ওই বছরের ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন। মামলায় ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতের ফাঁসি এবং ৬ আসামির যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ হয়।

