কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ায় খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে নিহতের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তার সহপাঠি ও এলাকাবাসীরা।
মঙ্গলবার সকালে শহরতলীর জগতী থেকে লাশ কাঁধে নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে। এসময় নিহত ইমরান হোসেনের আত্মিয়-স্বজন, সহপাঠি ও এলাকাবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
পরে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্ব্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা ও অভিযোগকারী পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করলে তারা স্থান ত্যাগ করে।
এসময় নিহতের দাফনের জন্য জেলা প্রশাসক ১০হাজার টাকা তার স্বজনের হাতে তুলে দেন।
জগতী ৩নং কলোনী এলাকার রমজান আলী হিটু কাঠমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালায়। দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সাইদ কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী এবং নিহত ইমরান হোসেন কুষ্টিয়া কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল।
নিহতের বড় ভাই কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের হত্যাকারীকে পুলিশ ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। হত্যাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ‘জগতী ক্যাম্পের টুআইসি আব্দুল আলিম টাকার বিনিময়ে হত্যাকারীকে ধরার পর ছেড়ে দিয়েছে। আর তাই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিসহ হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানান তিনি।’
এব্যাপারে জগতি ক্যাম্পের আইসি লিয়াকত আলী বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাবাসী সেই হত্যাকারী কালা ইমনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর পর কালা ইমন পালিয়ে যায়।’
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘ঘাতক কালো ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।’
এদিকে এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্যাম্প ঘেরাও করে রেখেছে। এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরণের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধায় শহরতলীর জগতির ৩নং কলোনীর ফুটবল মাঠে খেলাধুলার একপর্যায়ে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেনের সঙ্গে কালো ইমনের বিরোধ বাধে। এর এক পর্যায়ে কালো ইমনের চাকু দিয়ে ইমরানের বুকে ও পিঠে আঘাত করে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ইমরানকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে স্থানীয়রা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ইমরান।
পরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

