নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের আমদানি ও রপ্তানিকৃত ৮০ ভাগ পণ্য স্বল্প খরচে নৌপথে পরিবাহিত হয়। দেশের অর্থনীতিতে এ সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নৌ-পরিবহন শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে নৌপথে পণ্য পরিবহনে তথাকথিত মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া হবে। মঙ্গলবার সকালে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন নৌ-উপদেষ্টা। নৌ-উপদেষ্টা বলেন, দেশের নদীপথে নৌযানের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনকল্পে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক দ্রুততম সময়ে পণ্য পরিবহন নীতিমালা, ২০২৪ জারি করা হবে। একই সঙ্গে এই নীতিমালা যাতে সঠিক প্রয়োগ হয় সেটিও নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান সরকার নৌ-পরিবহন শিল্পের বিকাশ ও সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের সকল সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। নৌ-পরিবহন সেক্টরেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিনের প্রচলিত সিরিয়াল প্রথাকে ভেঙে একতরফা পণ্য পরিবহন করে নৌ-সেক্টরে এক অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এ সময় তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দরসহ নৌ-সেক্টরে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানকল্পে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নৌপথে ফিটনেসবিহীন ভেসেল সম্পর্কে তিনি বলেন, ফিটনেসবিহীন নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে কোস্টগার্ডকে এ সকল নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে নির্দেশনা দেয়া হবে। বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ নৌ-পরিবহন উপদেষ্টাকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা, ২০২৪ দ্রুত জারি ও প্রয়োগ করার অনুরোধ জানান। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরসহ সকল বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে নৌ-সেক্টরে নবদিগন্তের শুভসূচনা ঘটবে। বৈঠকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) দেলোয়ারা বেগম, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

