পতিত সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ছত্রছায়ায় দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ (কালব) এর দখলদার অবৈধ চেয়ারম্যান আগষ্টিন পিউরিফিকেশন মজিবুর রহমান- জেনারেল ম্যানেজার প্যাট্রিক পালমা চক্রের বিরুদ্ধে বিগত ১৮ মাসে সারা দেশে জমি ক্রয়ের ছলে অন্ততঃ ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, পতিত সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সহায়তায় আগষ্টিন পিউরিফিকেশন কালবে অবৈধভাবে চেয়ারম্যানের পদ দখল করে। সরকার পতনের পর আসাদুজ্জামান খান কামাল যখন পলাতক তখন রহস্যজনকভাবে আগষ্টিন পিউরিফিকেশন কালবের অবৈধ দখলদারিত্ব বজায় রেখে লুটপাট করে যাচ্ছে। সমবায় আইন, বিধি, উপআইন ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লংঘন করে আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে সমবায় অধিদপ্তরের কাজী মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ গং আগষ্টিনকে চেয়ারম্যান পদে বসিয়ে দিয়েছে। তার চেয়ারম্যান পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে কনটেম পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। পিটিশন নং-২৭/২০২৪। ঋণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে কেবলমাএ টাকা লোপাটের উদ্দেশ্যে তার বডিগার্ড মজিবুর রহমানের নামে বায়না দলিল করে গাজিপুর, ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় বাজার মূল্যের দ্বিগুন দেখিয়ে জমি কিনে টাকা আত্মসাত করেছেন। কালবের রিসোর্টের একপাশে ৫৯ শতাংশ, অপরপাশে সাড়ে ৪ বিঘা জমি মজিবুর রহমানের নামে বায়না দলিল করে কালবের নিকট বিঘা প্রতি সাড়ে ৫ কোটি টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। অথচ পূর্বের বোর্ড উক্ত জমি ৩ কোটি টাকা দর ঠিক করে রেখেছিল। ক্রয়ের সময়েও বাজারদর ৩ কোটি টাকা ছিল বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া রিসোর্টের অদুরে আরো ২৫ বিঘা জমি ক্রয়ে একই কায়দায় দুর্নীতি করেছে। তাছাড়া বরিশাল শহরের সাগরদি এলাকায় কালবের বোর্ডকে এড়িয়ে আগষ্টিন ৩৫ লাখ টাকা শতাংশ দরে ১৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে। অথচ উক্ত এলাকায় জমির বাজার দর সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা। তাছাড়া, রংপুরের জমি ক্রয় করে কালবের (ক) অঞ্চলের পরিচালক জিল্লুর রহমান ও রংপুর ক্লাস্টার কমিটির সভাপতি জুয়েলকে সাথে নিয়ে আগষ্টিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই জমি ক্রয়ে কালবের ভাইস চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য দ্বিমত পোষন করায় রংপুর ক্লাস্টার কমিটির সভাপতি জুয়েল হুমকিও দিয়েছেন। রংপুর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন গুপ্ত পাড়ায় ১৭ শতাংশ জমি ৩৫ লাখ টাকা শতাংশ দরে ক্রয় করেন। গুপ্ত পাড়ার স্থানীয় জমির মালিক ও ব্রোকারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এখানে জমির সর্বোচ্চ বাজার মূল্য ২০ থেকে ২৫ লাখ পর্যন্ত। একই কায়দায় ময়মনসিংহ শহরের খ্রীষ্টান পাড়ায় দ্বিগুণ মূল্যে জমি ক্রয় করে টাকা আত্মসাত করেছেন আগষ্টিন গং। অন্যদিকে কালবের প্রস্তাবিত প্রধান কার্যালয়ের জন্যে দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিঃ (এমসিসিএইচএসএল) থেকে বাজারদরের প্রায় দেড়গুণ মূল্যে জমি ক্রয় করার তথ্য পাওয়া গেছে। কালবের ৪র্থ বোর্ড সভার কার্য বিবরণী অনুযায়ী, দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির মালিকানাধিন ঢাকা জেলার ভাটারা এলাকার বাড্ডা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের অধীন ১০০ ফিট মাদানী রোডে অবস্থিত জমি কালবের প্রধান কার্যালয় নির্মানের উদ্দেশ্যে ক্রয়ের জন্যে ২২ মার্চ ৩য় বোর্ড সভায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সোসাইটির ভাটারা ৩ নং প্রকল্পের ১৮ ও ১৯ নং প্লট রাস্তার অংশসহ ৫.৪৩৯ কাঠা ক্রয় করার নিমিত্তে জমির মূল্য, রেজিস্ট্রেশন, খাজনা, সার্ভে, ভ্যাট ও ৬% ফান্ডকস্টসহ মোট পরিমান ৮,৪১,৭৪,০৭৬.৩৬ টাকা নির্ধারন করা হয়। পরবর্তিতে ফান্ডকস্ট বাদ দেয়া হয়। গত ১৩ জুন-২০২৩ তারিখে ৭,৯৪,০৯৫,০৬ টাকা মূল্যে জমি রেজিস্ট্রেশন করা হয়। দলিল নং ৮৪৪৮/২০২৩। কমিশন সিসম্টেম দলিল সম্পাদিত হয় দি মেট্রোপলিটান খ্রষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ে। এ সময় চেয়ারম্যান ও কালবের “মেরুদন্ডহীন” জেনারেল ম্যানেজার প্যাট্রিক পালমা উপস্থিত ছিলেন। অন্যকোন বোর্ড সদস্য যেমন উপস্থিত ছিলেন না তেমনি তারা জমি ক্রয়ের বিস্তারিত জানতেনও না। উল্লেখ্য, সি.এস ও এস.এ ২৭০৭, আর.এস ৭০৭১ ঢাকা সিটি জরিপের ১৫৪২৬ নং দাগের ভিটা জমি ০৫০৮অযুতাংশ ও ০৩১২ অযুতাংশ এবং সিএস ও এস.এ ২৭৩৪ , আর.এস ৭০৭০ ঢাকা সিটি জরিপের ১৫৪৩৮ নং দাগের ০০৭৭.৫০ অযুতাংশ জমি ক্রয় করা হয়। এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্রয়কৃত জমির এলাকার বাজারদর ৮০ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে। এমসিসিএইচএসএল’র এসব প্রকল্পের প্লট সদস্যদের মধ্যে ১০ লাখ টাকায় পূর্বে বিক্রি করা হয়েছে। তাছাড়া, এমসিসিএইচএসএল’র ভাটারা ২ নং প্রকল্প সংলগ্ন এলাকা থেকে বিনা সরকারের নিকট ৬.৯ শতাংশ জমি প্যাকেজ মূল্যে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় ক্রয় করেছে এবং ভাটারা ৩ নং প্রকল্প সংলগগ্ন জেমস ফিনির মালিকানাধীন ৪.১২৫০ শতাংশ জমি কাঠা প্রতি ৭০ লাখ টাকা দরে এমসিসিএইচএসএল ক্রয় করেছে। তাহলে এমসিসিএইচএসএল’র জমির বিক্রয় মূল্য বা ব্যুক ভ্যালু এত বেশি কেন-এটাই কালবের সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এমসিসিএইচএসএল লাভ দেখানোর জন্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে বারবার জমির উর্ধ্ব মূল্যায়ন করার ফলে জমির ব্যুক ভ্যালু এ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। মূলতঃ লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে এমসিসিএইচএসএল লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। লোকসান থেকে লাভজনক দেখানোর জন্যে নিয়মের বাইরে জমির উর্ধ্ব মূল্যায়ন করছে। যে কারনে চড়ামূল্যে কোন সদস্য উক্ত প্লট না কেনার কারণে দীর্ঘদিন অবিক্রিত হয়ে পড়ে ছিল। যা এখন কালবকে কৌশলে গছিয়ে দেয়া হয়েছে। এমসিসিএইচএসএল বছর বছর বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য না রেখে লোকসানী প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক দেখানোর জন্যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে উর্ধ্ব মূল্যায়ন করে যাচ্ছে। সমবায় অধিদপ্তরের দায়সারা অডিট রিপোর্টে এই অযৌক্তিক উর্ধ্ব মূল্যায়নের বিষয়ে আপত্তি দেয়া হয়েছে।মূলতঃ বাজারদর বহির্ভূত উর্ধ্ব মূল্যায়নের কারণে এমসিসিএইচএসএলর ফাঁপা মূলধন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এমসিসিএইচএসএল’র প্রচুর প্লট ও ফ্ল্যাট এখনো অবিক্রিত পড়ে আছে। একই কায়দায় লোকসানী প্রতিষ্ঠান কালবকে লাভজনক দেখানোর জন্যে জমির উর্ধ্ব মূলায়ন পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন আগষ্টিন। উল্লেখ্য দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড জমি বিক্রির ৮ কোটি টাকা দলিল সম্পাদনের পর কালবে এফডিআর করে রেখেছে। গত বছরে এমসিসিএইচএসএল মোট ১২ কোটি টাকা কালবে এফডিআর করেছে। দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের কালবের সহযোগী সদস্য পদ গ্রহন এবং কালবে এফডিআর রাখা উভয়ই সমবায় আইন-২০১৩ ও সমবায় বিধিমালা-২০২০ অনুযায়ী অবৈধ। এ দিকে আগষ্টিন দখলে নেয়ার পর আসাদুজ্জামান খান কামালের কালো টাকা কালবে জমা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অন্যদিকে আগষ্টিন পিউরিফিকেশন- রিসোর্টের সিইও রোমেল হিউবার্ট ক্রুজ ও জিএম প্যাট্রিক পালমা কালব রিসোর্টে কোন দরপত্র ছাড়াই বডিগার্ড মামুনকে দিয়ে নামওয়াস্তে প্রায় ৫ কোটি টাকার কাজ দেখিয়ে অন্ততঃ ২ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে বেল অভিযোগ আছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আগষ্টিন পিউরিফিকেশনের মন্ত্রীদের সাথে চলাফেরা ও তার অর্থ পেশী শক্তির ভয়ে বোর্ড সদস্যরা সব অনিয়ম দুর্নীতি নিরবে সয়ে গেছেন। অতিষ্ঠ হয়ে শেষে বোর্ডের ৭ জন পদত্যাগ করেছেন। আগষ্টিন চক্রের জমি ক্রয়ের সকল অনিয়ম দুর্নীতি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কালবের সচেতন ডেলিগেটগণ।

