ঢাকাSunday , 6 October 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় বন বিভাগের ভবন নির্মাণে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ

Link Copied!

জনতার গণ অভূত্থানের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুর্নীতিবাজদের এ নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই। কারণ বিগত ১৭ বছরে তাদের শিকড় অনেক গভীরে রোপিত হয়েছে। যে কারণে দুর্নীতিবাজরা কেউ কেউ আরাম আয়েশে দিনাতিপাত করছেন। দৈনিক পাঞ্জেরীর অনুসন্ধানে বন বিভাগের এরকমই একজন দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আজকের তথ্যবহুল প্রতিবেদন। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নাম নির্মল কুমার পাল। তিনি বর্তমানে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও। তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ রাস্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে টেন্ডারে কাজ পাইয়ে দেওয়ার খবর ফাঁস হওয়ায় বন বিভাগে সৃস্টি হয়েছে ব্যাপক তােলপাড়। জানা গেছে, খুলনার বয়রাতে সুফল প্রকল্পের আওতায় অফিস ভবন নির্মাণের জন্য ইজিপির মাধ্যমে একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই হিসেবে গত ৩০ জুলাই উক্ত দরপত্রে মোট ৮টি দরদাতা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। তবে সমঝোতার মাধ্যমে অফিসিয়াল গোপন রেট সংগ্রহ করে ৫টি প্রতিষ্ঠান একই রেটে দরপত্র দাখিল করে। অন্যদিকে গোপন রেট সংগ্রহ করতে না পারা ৩টি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত দুর্নীতিবাজ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পালের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানকে সমঝোতার মাধ্যমে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য পিপিআর বহির্ভূত শর্তারোপ করেন। উল্লেখ্য, কোন নির্মাণ কাজের জন্য পিপিআর অনুসারে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ অভিজ্ঞতার সনদপত্র চাওয়ার বিধান থাকলেও এই দুর্নীতিবাজ এবং স্বেচ্ছাচারী বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার অফিস ভবন নির্মাণ কাজের জন্য একক কার্যাদেশে ৬ কোটি টাকার পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদপত্র চান। পিপিআর অনুসারে উক্ত কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকার পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদপত্র চাওয়া যায়। কিন্তু তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নানা শর্তারোপ করেন। সূত্র জানায়, সুফল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হচ্ছেন খুলনার বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো। প্রকল্প পরিচালকের নিয়ন্ত্রানাধীন সকল ডিভিশনের যে কোন কোটেশন/দরপত্র/মূল্যানুমান প্রকল্প পরিচালক অনুমোদন দিয়ে থাকেন। কিন্তু উক্ত অফিস ভবন নির্মাণ কাজের দরপত্রটি অনুমোদনের বিষয়ে ডিএফও নির্মল কুমার পালের দুর্নীতির গোমর ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে প্রকল্প পরিচালককে কোন তথ্য না দিয়ে এবং দরপত্রটি অনুমোদনের জন্য প্রকল্প পরিচালকের কাছে না পাঠিয়ে অত্যন্ত গোপনে পিপিআর বহির্ভূতভাবে আওয়ামী সরকারের দোসরদের প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ প্রদান করেন তিনি। বন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কর্তৃক যে কোন কাজের কার্যাদেশের অনুলিপি প্রকল্প পরিচালকের নিকট প্রেরণ করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। সূত্র আরও জানায়, পিপিআর বহির্ভূত শর্তারোপ, গোপন রেট জানিয়ে দেওয়া, আর্থিক লেনদেন ও বিধি বহির্ভূতভাবে অনুমোদন নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্মাল কুমার পালকে সহযোগিতা করেন-বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা তম্ময় বাবু ও সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা লুৎফর পারভেজ । উক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা লুৎফর পারভেজ এর আগেও একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে একটি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য অগ্রীম ৩ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেন। সূত্র জানায়, ডিএফও নির্মল কুমার পাল খুলনার দাপুটে সাবেক এমপি শেখ জুয়েলের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। যে কারণে তিনি কাউকে পাত্তা দিতেন না। উক্ত বন কর্মকর্তার আয় বহির্ভূত বিপুল সম্পদ রয়েছে। সূত্র আরও জানায়, রাজধানীর উত্তরায় বিলাশবহুল একটি ফ্ল্যাটও রয়েছে তার। এছাড়া নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদেরও খোঁজ পাওয়া গেছে। যা নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলছে। তবে অফিস ভবন নির্মাণ কাজে দরপত্রে অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হলে বন বিভাগের কর্মকান্ড নিয়েও আলোচনা চলছে সর্বত্র। সুতরাং এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগিরা প্রধান বন সংরক্ষকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।