ঢাকাSunday , 1 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লংকানদের ধন্যবাদ

Link Copied!

srilankaস্পোর্টস ডেস্ক : ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্ন গ্রাউন্ডে শ্রীলংকার কাছে সেদিন বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। বিশেষ করে মাশরাফির প্রথম ওভারে লাহিরু থিরিমান্নের সহজ ক্যাচ এনামুল হক বিজয় ফেলে দেয়ার পর মন ও মেজাজ দুটোই খারাপ হয়ে পড়েছিল। ক্রিকেটে একটি প্রচলিত কথা আছে ‘ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস।
সেদিন এনামুল ছাড়াও মমিনুল, তাসকিনের ক্যাচ ফেলে দেয়া ও উইকেটের পেছনে মুশফিকের স্ট্যাম্পিংয়ের সুযোগ মিস- কোনো কিছুই সহজে মেনে নেয়ার ছিল না। আমার মতো অনেকেই মনে করেন, আমাদের ক্রিকেটাররা আরেকটু সতর্ক হলেই এসব ‘অমার্জনীয়’ ভুল এড়ানো যেতো। সে ক্ষেত্রে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারতো।
শ্রীলংকার সঙ্গে বাংলাদেশ ‘জিতবেই’ এমন বাজি আমি ধরি না। কারণ, শক্তি ও পেশাদারিত্বের দিক দিয়ে তারা আমাদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। কিন্তু ম্যাচটি যখন হয় মরা-বাঁচার, তখন তো জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার উপায় নেই। অথচ আমাদের ক্রিকেটারদের মানসিকতা ওইদিন সেরকম ছিল না। এটা প্রমাণ করে তাদের শরীরি ভাষা।
সেদিন হেরে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ ছিল। সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনেদের খেলা আমি সবসময় উপভোগ করলেও সেদিন শ্রীলংকার প্রতি খানিকটা ‘গোস্যা’ হয়েছিল বৈকি!
যা হোক, ওয়েলিংটনে শ্রীলংকা-ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখে সেই গোস্যার ব্যাপারটি হঠাৎই উবে গেছে। বাংলাদেশের অনেক সমর্থকেরই নজর ছিল এই ম্যাচের ওপর। কারণ, এই বিশ্বকাপে আমাদের সামনে চলার পথে দলটি হয়তো ভূমিকা রাখতে পারে এমন একটি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু লংকান সিংহরা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের হতাশ করেননি।
শ্রীলংকা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে বিশাল ব্যবধানে। তাদের এই জয় পরোক্ষভাবে সহায়তা করবে আমাদের শেষ আটে যাওয়ার ক্ষেত্রে।
ওয়েলিংটনে আজ ইংলিশদের শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছিল। মঈন আলি-ইয়ান বেলের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬২ রান। তারপর বিপর্যয়ে পড়লেও তা সামাল দেন ইয়ন মরগ্যান-জো রুট জুটি। এই জুটিতে আসে ৯৮ রান। ইংলিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৮ বলে ১২১ রান করেন রুট। শেষ পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ  ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০৯। স্বাভাবিকভাবেই এটা একটা চ্যালেঞ্জিং স্কোর।
কিন্তু লংকান ব্যাটসম্যানরা এই বিশাল সংগ্রহকেও মাটিতে নামিয়ে আনল। থিরিমান্নে-সাঙ্গাকারার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৬ বল বাকি থাকতেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯ উইকেটে জয় পায় তারা। থিরিমান্নে-সাঙ্গাকারা উভয়েই সেঞ্চুরি করেন।
ওয়েলিংটনে শ্রীলংকা জয় পাওয়ায় পয়েন্ট টেবিলে এখন ইংল্যান্ড খানিকটা ‘ব্যাকফুটে’। আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে টাইগারদের। এখন বাংলাদেশের সামনে রয়েছে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এর একটি ৫ মার্চ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। দ্বিতীয়টি ৯ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সর্বশেষ স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ১৩ মার্চ হ্যামিল্টনে।
শক্তির বিচারে স্কটল্যান্ড হারানোর ক্ষমতা রাখে মাশরাফিরা। আর ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ওয়ানডেতে তাদের হারানো অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। এখন কেবল প্রয়োজন শ্রীলংকার বিপক্ষে ওই মাচের ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটানো। বাংলাদেশ শেষ আটে যাবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে। তবে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাতে ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ রাখার জন্য লংকানদের ধন্যবাদ।