বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন মামলায় আটকদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে এবং এরইমধ্যে অনেকে মুক্তি পেয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনারা জানেন, ম্যাডাম খুব অসুস্থ। আমি গতকাল রাতে দেখা করেছি। সুতরাং যখনই তিনি ফিট মনে করবেন, সুস্থবোধ করবেন, তখন তিনি জনগণের সামনে উপস্থিত হবেন।’ দলীয় সূত্র জানায়, আপাতত বিএনপি চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির বলেন, ‘আপাতত হাসপাতালেই চিকিৎসা চলবে ম্যাডামের।’
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারত যান। এরপর দেশ পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ বিষয়ে গত সোমবার বিকেলে বঙ্গভবনে তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এবং সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় আটক সব বন্দীকে মুক্তি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।
উল্লেখ্য বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বন্দি করা হয়। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত স্বার্থচরিতার্থ করতে তাঁকে মিথ্যা সাজানো মামলায় বন্দী করে রাখেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্র মামলায় তিনি জড়িত না থাকলেও তাকেঁ ফাসানো হয়। অপরদিকে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয় তা কাল্পনিক ও মিথ্যা। কোন প্রকার দুর্নীতির ঘটনা এ মামলায় ঘটেনি কিংবা বেগম খালেদা জিয়া কোনভাবে তাতে জড়িত ছিলেন না। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী তাঁকে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত ও স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে একাকি রাখা হয়। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। ২০২০ সালে দেশজুড়ে করোনা মহামারী রুপ ধারণ করলে নির্বাহী আদেশে তাঁকে মুক্তি দিয়ে বাসায় রাখা হয়। কিন্তু তাঁকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসাও কোন সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি মামলঅয় জামিন পাওয়ার বিধান থাকলেও উচ্চ আদালত থেকেও তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। ৭৯ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া হৃদরোগ, লিভার, ফুসফুস, কিডনি, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন দীর্ঘদিন থেকে। এর মধ্যে লিভার, কিডনি ও হৃদরোগকে বেগম জিয়ার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকির কারণ মনে করছেন তার চিকিৎসকরা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর হৃদযন্ত্রে বসানো হয়েছে পেসমেকার।

