নিজস্ব প্রতিবেদক : এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তরুণ কবি জব্বার আল নাঈমের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তাড়া খাওয়া মাছের জীবন’। বইটি প্রকাশ করেছে শুভ্র প্রকাশ।
জব্বার আল নাঈমের তাড়া খাওয়া মাছের জীবন কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে তার সুহৃদ মাসুদুজ্জামান মাসুদ ফেসবুকে লিখেছেন, মাছ নিয়ে প্রথম চমক লাগানো কবিতা পড়ি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের এবং এরপর বিনয় মজুমদারের। বিনয়ের কবিতা যে কতটা আলাদা, সেকথা নতুন করে বলার কিছু নেই। এবার বইমেলায় প্রকাশিত তিনটি বইয়ের নামে মাছের ব্যবহার দেখে আবারও চমকে উঠলাম। তিনটি বই-ই তিন তরুণ কবির। তবে সবচেয়ে সাড়া জাগানো নামটি জব্বার আল নাঈমের – তাড়া খাওয়া মাছের জীবন। এটি নাঈমের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। লক্ষণীয়, নাঈমের কথা বলার ভঙ্গিটা নিজস্ব, অনুভূতিও তীব্র। চিরায়ত অনুভূতি – প্রেম, বিষাদ, হর্ষ, নৈঃসঙ্গ্য, কষ্ট, একাকীত্ব – সবই নাঈমের কবিতায় খুঁজে পাওয়া যাবে। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বিভিন্ন বিষয়ে কবিতা লেখার অনায়াস দক্ষতা আছে নাঈমের। সময়ের চাপে বিপন্ন মানুষের জীবন তাকে ভীষণ ভাবায়। আর তাড়া খাওয়া মানুষই সার্বিকভাবে হয়ে ওঠে তার কবিতার বিষয়। নাঈম, নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই সময়ের একজন শক্তিশালী কবি। তাড়া খাওয়া মাছের জীবন যেন তার নিজের বা সমকালীন বিপন্ন মানুষেরই জীবন। সমকালীন কবিতার ভাষাতেই নাঈম কবিতা লেখেন – তার কবিতার শব্দব্যবহার, উপমা, চিত্রকল্প অনন্য এবং আকর্ষক। বইটির প্রকাশ উপলক্ষে নাঈমকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দিত করি।
অপর এক বার্তায় সাইয়েদ জামিল লিখেছেন, জব্বার আল নাঈমের কবিতা প্রসঙ্গে শ্রীযুক্ত আল মাহমুদ তার নাতিদীর্ঘ এক প্রবন্ধে লিখেছেন, জব্বারের কবিতা আমাকে তাড়িত করে, ভাবায়। আমি ঘোর ও বিস্ময়ে এই তরুণ কবির সৃষ্টিকে, তার কাব্যকলার দ্যোতনাকে অনুধাবণ করার চেষ্টা করি। তার কবিতার অন্তর্নিহীত সুরে আমি মোহাবিষ্ট হই। তার কবিতায় যে সৌন্দর্য সুষমা ছড়ায় তা অনন্য।
আল মাহমুদের বিবেচনার ওপর আমার সীমাহীন আস্থা। আমি জানি, তিনি সত্যিকারের প্রতিভাকে মূল্যায়ন করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। আমাদের সময়ে জব্বার সেই প্রতিভাবান তরুণ যিনি আল মাহমুদের স্নেহধন্য হতে পেরেছেন।
‘তাড়া খাওয়া মাছের জীবন’ বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন নির্ঝর নৈঃশব্দ্য।

