নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ শনিবার শেষ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা-২০১৫। এবারের মেলার মূল আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ ৬০ বছর পর আবার দেশে বড় ধরনের সাহিত্য আড্ডা বসেছিল। এসেছিলেন দেশ-বিদেশের অনেক খ্যাতিমান সাহিত্যিক।
আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, মালয়েশিয়া, ইকুয়েডরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ভাষার প্রায় ৫০ জন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও সাহিত্য-সমালোচক অংশগ্রহণ করেন।
এদের মধ্যে আছে ফ্রাঁস ভট্টাচার্য, হান্স হার্ডার, ফাদার দ্যতিয়েন, মারিয়া বারেরা হেলেনা, তবিয়াস বিয়ানওনে, দাতু ড. আহমেদ কামাল আবদুল্লাহ, জার্মেইন ড্রুগেনব্রুট, সিন্ডিলি ব্রাউন, পিটার নাইবার্স, জামি ঝু, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, নবনীতা দেবসেন, উদয় নারায়ণ সিংহ, কবি উৎপলকুমার বসু, কবি সুবোধ সরকার প্রমুখ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের পাশাপাশি ত্রিপুরা, আসাম এবং বিহারের মৈথিলি ও ভোজপুরি ভাষার বেশ কয়েকজন সাহিত্যিকরাও এ সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
গত বছরের মতো এবারের বইমেলাও অনুষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমি সম্মুখস্থ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯২টি প্রতিষ্ঠানকে ১২৮টি ইউনিট এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৫৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ৩৫১টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৫৬৫টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এবারই প্রথমবারের বাংলা একাডেমিসহ মোট ১১টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটির জন্য ৪০০ বর্গফুটের প্যাভিলিয়ন প্রদান করা হয়েছে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ১০৬টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ইউনিট, ৯৬টি প্রতিষ্ঠানকে দুইটি ইউনিট, ৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে তিনটি ইউনিট এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে চারটি ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।
বাংলা একাডেমির অভ্যন্তরীণ অংশে ৩২টি শিশু-কিশোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৪২টি ইউনিট, ২৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৪৪টি ইউনিট, ১৯টি মিডিয়া ও আইটি প্রতিষ্ঠানকে ২০টি ইউনিট এবং ১৭টি অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২২টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এবার উন্মুক্ত জায়গাসহ ৭২টি লিটল ম্যাগাজিনকে বর্ধমান হাউজের দক্ষিণ পাশে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে জায়গা করে দেয়া হয়। ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন তাদের বই বিক্রি/প্রদর্শনের জন্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে রাখা হয়েছিল।
গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বই শতকরা ৩০ ভাগ কমিশনে এবং ২০০০ সালের আগে প্রকাশিত একাডেমির বই শতকরা ৭০ কমিশনে বিক্রি করা হয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ ভাগ কমিশনে বিক্রি করে।
অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে গত এক বছরে প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব: কবি আবুল হোসেন, দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম, ভাষাসংগ্রামী ও লেখক বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ইতিহাসবিদ সালাহ্ উদ্দীন আহমেদ, চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম, ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিন, জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন, সাংবাদিক এবিএম মূসা, শিশুসাহিত্যিক এখ্লাসউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণাদায়ী গানের রচয়িতা গোবিন্দ হালদার, জিনবিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম এই ১৩ জনকে স্মরণ করে স্মৃতি-স্মারক স্থাপন করা হয়েছিল।

