ফাগুন সংবিত্তি
মো. মতিয়ার রহমান
কালের স্রোতে ভেসে যায় অতীত
দূরে- বহু দূরে-
আসে ফাগুন পুনঃ পুনঃ
শীতের জড়তা ফুঁড়ে,-
ফুল ফুটে ঝরে যায়
হয় না নিঃশেষ-
রেখে যায় জীবনের সত্তা অসীম।
শৈশব কৈশর পেরিয়ে আসে যৌবনের স্পন্দন
জীবনের পট হয় পরিবর্তন,
কাঁপে থরথর অসত্যের আসন
গড়ে ওঠে আকাশ ছোঁয়া সত্যের সিংহাসন।
কিন্তু কেন-
বাহান্নের ফাগুনে যে গোলাপ মেলেছিল পাঁপড়ি
রক্তের পরশ পেয়ে-
যে গোলাপ নীরবে নিভৃতে
শুনছিল, লক্ষকোটি সন্তানের আর্তনাদ!
দিয়েছিল মাকে মা বলে ডাকার অধিকার,
পতাকায় তুলে দিয়েছিল-
রক্তলাল উদ্দীপ্ত সূর্য-।
ভুলে গেছি আমরা সে সবই?
কেন ভুলে গেছি শহীদের রক্তের দান?
সে গোলাপতো ফুটেছিল-
তোমার আমার হৃদয় বাগানে-
অনন্ত সৌরভ ছড়াতে-
চির মহান, চির অমর হয়ে থাকতে-
কিন্তু কেন-সে
মহান ও অমর ফাগুনের মানসসত্তা আজ-
লাঞ্ছিত, ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ-
কেন সে রোষিত কণ্ঠে বলে যাচ্ছে-
জবাবদিহি করো, কৈফিয়ৎ দাও।।

