বিনোদন ডেস্ক : ফাগুনের বাতাসটা একটু উল্টা পাল্টাই হয়। পাগলা বাতাস হুট হাট কোথা থেকে যেন উদয় হয়। উড়ায় ঝরা পাতা, গান শুনিয়ে যায় বসন্তের। এই দুষ্টু হাওয়া শরীরে মেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শুকনো পাতার উপর দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে চোখ খুঁজছিলো ‘পাল্টা হাওয়া’। হলদে রোদ ক্রমশ জ্বলে ওঠছে আগুন রুপে। ‘দেখ দেখ শ্যুটিং হচ্ছে’ বাক্যটা কানে আসতেই চোখ ঘুড়িয়ে দেখা পেলাম ‘পাল্টা হাওয়ার’।
পার্কের বেঞ্চে বসে আছেন নিশো, নিলয়, রাজীব এবং অ্যালেন শুভ্র। চার জনে মিলে আড্ডা দিচ্ছেন আর নিজেদের নাটকের ব্যক্তি জীবন নিয়ে আলাপ করছেন। নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল মনিটরে চোখ রেখে কিছুক্ষণ পর পর বলে উঠছেন, ‘না হচ্ছে না, আবার যাই, এই জায়গাটা তুমি মিস করেছো…আবার দাও’ বলে মনিটরে চোখ রাখেন নির্মাতা। ওদিকে পার্কে ঘুরতে আসা মানুষের শ্যুটিং দেখার আগ্রহ বাড়তে থাকে।
বাদামওয়ালা, আইসক্রীম বিক্রেতা, ঝালমুড়িওয়ালা, বড়ই বিক্রেতাও জরো হতে থাকেন আশপাশে। নির্মাতা দোদুল এর মধ্যে কাঁচা বড়ই কিনে নিলেন। নির্মাতা বড়ই খেতে খেতে শ্যুটিং চালিয়ে যাচ্ছেন। ফাগুন বাতাস তো থামছে না। উড়াইলা বাতাস। বাতাস খেতে খেতে ‘পাল্টা হাওয়া’ বিষয়ক কিছু তথ্য আপনাদের দিয়ে রাখি। বলা তো যায় না, যে বাতাস বইছে ভুবনে…। ‘পাল্টা হাওয়া’ হচ্ছে ওপার বাংলার লেখক স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর একটি উপন্যাস। আর এ উপন্যাসে বর্ণিত চরিত্রদেরকে গোলাম সোহরাব দোদুল ভিজ্যুয়াল রূপ দিচ্ছেন। উপন্যাসটির নাট্যরুপ দিয়ে তাকে এ কাজে সহযোগিতা করছেন শফিকুর রহমান শান্তুনু। উপন্যাসের নানা চরিত্রে দেখা যাবে, রিচি সোলায়মান, তানিয়া হোসাইন, শাহাদাৎ হোসেন, শশী, স্বাগতা, নিলয়, রাজীব, অ্যালেন সহ আরো অনেকেই। ধারাবাহিকটি বাংলাভিশনে প্রচারের কথা রয়েছে।
‘সাপ… সাপ…সাপ’ কে যেন বলে ওঠলো। একটু ভয়ে ভয়ে তাকাতেই চোখের সামনে নির্মাতা ও অ্যালেনকে সাপ নিয়ে খেলতে দেখলাম। তারা সাপ নিয়ে খেলছেন, চোখে মুখে ভয়ের ছাপ নেই বিন্দু, যেন দক্ষ সাপুরে তারা। হাসছেন খেলছেন, সাপের মাথায় চুমু খাচ্ছেন… ওরে বাবা…পাল্টা হাওয়ায় চড়ে সাপ চলে আসলো নাকি? না, সাপটি উড়াল দিয়ে আসেনি। নাটকের প্রয়োজনে সাপকে অভিনয় করাতে নিয়ে আসা হয়েছে। মানুষের সঙ্গে অভিনয় করবে সাপ। বাহ! বিষয়টা তো হেব্বি মজার…। সাপ এবং মানুষের অভিনয় দেখতে জনতার ভির আরো বেড়ে গেলো। দূরন্ত যুবকের ন্যায় ফাগুন হাওয়া ছোটাছুটি করছে যেন সে চোর পুলিশ খেলছে…।

