বরগুনা প্রতিনিধি : সুলভ মূল্যে গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার মানুষ। এসব জেলায় এখনও দেয়া হয়নি বিটিসিএলের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। এ অবস্থায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বেশি অর্থ ব্যয় করেও তারা পাচ্ছেন না চাহিদা অনুযায়ী ইন্টারনেটের গতি।
তবে ঠিক কবে নাগাদ এসব অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিতে পারবে তা বলতে পারছে না বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ।
বরগুনা জেলা শহরে কয়েকটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। এর প্রতিটি ট্রেনিং সেন্টারে প্রতিদিন তিনটি ব্যাচে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ফ্রি-ল্যান্সার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করে চুক্তি ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের কাজও করছেন। কিন্তু বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ এখনও ব্রডব্যান্ড সংযোগ না দেয়ায় বাধ্য হয়ে তারা মোডেম ব্যবহার করছেন।
তবে মোডেম ব্যবহারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হলেও চাহিদা অনুযায়ী গতি পাচ্ছেন না ব্যবহারকারীরা। আর গতি না পাওয়ায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজ দিতে অনীহা প্রকাশ করছে।
বরগুনা ফ্রি-ল্যান্সার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ট্রেইনার আলীম হোসেন বলেন, ‘ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে বিদেশি অনেক কোম্পানি আমাদের এখন আর কাজ দিচ্ছে না। বরগুনায় যদি ব্রডব্যান্ড সংযোগ থাকতো তাহলে অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো।’
বর্তমানে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানিগুলো এক এমবিপিএসের থ্রি জি আনলিমিটেড প্যাকেজ ১২ থেকে ১৫’শ টাকায় দেয়া হলেও তা আট জিবিতেই সীমাবদ্ধ থাকে। আট জিবি থ্রি জি ব্যবহারের পর এক মাস মেয়াদ থাকলেও তার গতি টু জির তুলনায় অনেক কমে যায়।
এদিকে, ইন্টারনেটের এমন ধীরগতি ভোগান্তিতে ফেলছে সংবাদকার্মীদেরও। বাড়তি টাকা খরচ করেও সঠিক সময়ে সংবাদ পাঠাতে পারছেন না বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
সময় টেলিভিশনের বিভাগীয় প্রতিনিধি এম এ আজীম বলেন, ‘ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে অনেক সময় আমাদের চাকরি চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। আসলে ইন্টানেটের সমস্যাটি অচিরেই দূর করা না গেলে অনেক উন্নয়নের ছোয়া থেকে বরগুনার মানুষ বঞ্চিত হবে।’
যমুনা টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি জাবের সোহেল বলেন, ‘ইতোমধ্যে মোবাইল কোম্পানির মাধ্যমে আমরা থ্রি জির একটি সাপোর্ট পেয়েছি। তবে থ্রি জি আনলিমিটেড প্যাকেজ অ্যাক্টিভেট করে থাকলেও তা দিয়ে মাত্র ১০ দিন থ্রি জি সুবিধা ব্যবহার করতে পারি। তারপরে সেটিও টু জির থেকে কম গতি হয়ে যায়। যার কারণে অনেক সময় মাত্র ১০০ মেগাবাইটের একটি ভিডিও ফুটেজ আপলোড করতে আমাদের ৬-৭ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।’
চ্যানেল ২৪ এর বরগুনা প্রতিনিধি জাফর হোসেন ছালেহ বলেন, ‘জরুরী কোনো সংবাদ সংগ্রহের জন্য জেলা শহর থেকে কোনো একটি উপজেলা শহরে গেলে দুর্ভোগের আর সীমা থাকে না। তখন ৫-৬ ঘণ্টা চেষ্টা করেও ২০ মেগাবাইটের একটি ভিডিও ফুটেজ পাঠানো সম্ভব হয় না।’
বরগুনা ডাব্লিউ উপ-বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান জানান, অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগটি বরিশাল থেকে এখনও বরগুনায় এসে পৌঁছায়নি। যার কারণে তারা ব্রডব্যান্ড সংযোগটি বরগুনায় দিতে পারছেন না। তবে একটি প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হতে একটু সময় লাগবে।
ঢাকা থেকেই মূলত এ সিদ্ধান্ত হয় বলে এটি কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা তিনি বলতে পরেননি।

