স্পোর্টস ডেস্ক : গেইলের ঝড়ো তান্ডব, সঙ্গে স্যামুয়েলসের মিনি সাইক্লোন; সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩৭২ রান, মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে। এমন লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে বড় ব্যবধানেই হারবে, এটাই ভেবেছিল অনেকে। তবে জিম্বাবুয়ে হেরেছে ঠিকই, কিন্তু লড়াই করে। বৃষ্টির কারণে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য ছোট হয়ে আসে। তাদের টার্গেট দাঁড়ায় ৪৮ ওভারে ৩৬৩ রান। জবাবে জিম্বাবুয়ে ৪৪.৩ ওভারে অল আউট ২৮৯ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বৃষ্টি আইনে জিতেছে ৭৩ রানে।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিরে আসার গল্পটা বেশ দারুণই। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আইরিশদের সঙ্গে হার। দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে রোমাঞ্চকর জয়ে কঠিন কামব্যাক। তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে গেইল-স্যামুয়েলসের নানা রেকর্ডে ভর করে ৭৩ রানের জয়। বিশ্বকাপে নিজেদের আধিপত্য নতুন করেই জানান দিল ক্যারিবিয়ন শিবির।
জয়ের জন্য লক্ষ্য ৩৬৩ রান। শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। দলীয় ১১ রানেই বিদায় নেন চাকাভা (২) হোল্ডারের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ৫ রান করা মাসাকাদজাকে সাজঘরে ফেরান জেরোমে টেইলর। দলীয় রান তখন ২৬। এমন অবস্থায় তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাল ধরার চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা ও ব্রেন্ডন টেইলর। চলছিল ভালোই। তবে দলীয় ৪৬ রানে সিকান্দার রাজাকে(২৬) সিমন্সের হাতে ক্যাচ বানান হোল্ডার। এরপর মিডল অর্ডারে বেশ ভালোমতোই ঘুড়ে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ব্রেন্ডন টেইলর ও উইলিয়ামস যোগ করেন ৮০ রান। জিম্বাবুয়ের দলীয় রান তখন ১২৬। টেইলরকে (৩৭) আউট করে এই জুটি বিচ্ছিন্ন করেন স্যামুয়েলস।
পঞ্চম উইকেটে আরভিনের সঙ্গে ৫১ রান যোগ করেন উইলয়ামস। দলীয় রান তখন ১৭৭। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭৭ রান করা উইলিয়ামস বিদায় নেন হোল্ডারের বলে। লড়াই করা শন আরভিন ফিফটি (৫২) করে বোল্ড হন গেইলের বলে। শেষ পর্যন্ত মাতসেকানেরিয়া (১৯) চিগাম্বুরা (২১), চাতারা (১৬) প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয় ২৮৯ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়েছে জেরোমে টেইলর ও জেসন হোল্ডার। গেইল নিয়েছেন দুই উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মিলার ও স্যামুয়েলস।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার ডেভন স্মিথ। পানিয়াঙ্গারার বলে সরাসরি বোল্ড তিনি। তবে এর পর হয়েছে ইতিহাস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গেইল ও স্যামুয়েলস খেলেছেন ৫০ ওভার পর্যন্ত। ১৪৭ বলে ২১৫ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন গেইল। আর ১৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন স্যামুয়েলস। ওয়ানডে ক্রিকেটে গেইলের এটি প্রথম ডাবল হান্ড্রেড, ক্রিকেট ইতিহাসে পঞ্চম, বিশ্বকাপে প্রথম। হয়েছে ছক্কার রেকর্ড, ১৬। হয়েছে স্যামুয়েলসের সঙ্গে ৩৭২ রানের রেকর্ড জুটিও। ব্যাট হাতে ২১৫ রান, বল হাতে দুই উইকেট; অনুমিতভাবেই ম্যাচ সেরা হয়েছেন ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল।

