বিনোদন ডেস্ক : ভাষার মাস একুশে ফেব্রুয়ারি চলছে। বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলা প্রাঙ্গনে প্রতিদিনই বইপ্রেমীরা ভীড় জমাচ্ছেন নতুন বই এর খোঁজ খবর এবং কেনাকাটার জন্যে। প্রত্যেক বই প্রেমী একবারের জন্য হলেও বই মেলায় ঢুঁ মেরে আসছেন। বন্ধুদের নিয়ে বই মেলায় গিয়ে বই কেনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখাসহ বিভিন্নভাবে সময় পার করছেন পাঠকরা। কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারা বইমেলা নিয়ে কি ভাবছেন? কোন লেখকের বই তাদের কাছে প্রিয়। কোন বইগুলো পরম যত্ন করে সংগ্রহ করে রেখেছেন যাতে কোনদিনও নষ্ট না হয়ে যায়…এই বইমেলা নিয়ে চলচ্চিত্র তারকোদের কি আয়োজন চলছে। তা জানার চেষ্টা করা হয়েছে।
আহমেদ শরীফ বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান প্রবীন অভিনেতাদের অন্যতম একজন। বইয়ের প্রেমী হিসেবেও কম জান না তিনি। গতানুগতিক গল্প তার কখনোই পড়তে ভালো লাগে না। একটু ভিন্ন ধরনের কাহিনী সচরাচর যে ধরনের ঘটনাগুলো আমাদের সমাজে ঘটে তার বাইরে পছন্দ আহমেদ শরীফের। ২০১৩ সালে শেষ গিয়েছিলেন বইমেলাতে। এরপরের বার আর যাওয়া হয়নি। এবার দেশের পরিস্থিতি খারাপ থাকা সত্বে এবার এখনও যাওয়া হয়নি বই মেলায়। তবে দু একদিনের মধ্যেই বই মেলায় যাওয়ার কথা জানান এ প্রবীন অভিনেতা। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা তার খুবই প্রিয়। তবে একটি বিষয় তিনি নিজেই জানালেন যে প্রচুর বই কেনা বা পড়া হলেও শুধুমাত্র ৩০০ এর মত বই তার সংগ্রহে আছে। বাকি বইগুলো হারিয়ে গেছে। এজন্য খুব কষ্টও লাগে আহমেদ শরীফের।
মিশা সওদাগর বাংলা চলচ্চিত্রের ভিলেন হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে মিশা সওদাগর ঠিক পর্দার বিপরীত মহিমায় ভাস্বর। উপন্যাস প্রেমী বললে ভুল হবে না তাকে। বর্তমান সমসাময়িক বেশীরভাগ লেখকেরই বই কমবেশি পড়েছেন তিনি। রম্যরচনা ভীষণ প্রিয় তার। ২০১৫ এর বই মেলায় এখন যাওয়া হয়নি শ্যুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে। দু-একদিনের মধ্যে সময় করে বেশকিছু বই কিনবেন। তার তালিকাও তৈরি হয়ে গেছে। জীবনী গ্রন্থের প্রতিও তার ঝোঁক রয়েছে। মনীষী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবনী তার ভীষণ পছন্দ। মিশা সওদাগরের ঘরটিকে পুরো একটি বইয়ের স্তুপ বললে ভুল হবে না। সর্বশেষ কথা হল মিশা সওদাগর এক কথায় হুমায়ূন আহমেদের অন্ধ ভক্ত।
অপু বিশ্বাস বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়ের ব্যস্ততম ও জনপ্রিয় নায়িকা। সব সময়ই অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে এখন পর্যন্তও যাওয়া হয়ে উঠেনি বইমেলাতে। এর কারণ তিনি নিজেই জানালেন ঢাকার আসার পর পরই অভিনয় নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাই আর যাওয়া হয়ে উঠেনি। তবে বইমেলার এই উৎসবটা খুব মিস করেন তিনি। পছন্দের গল্পকারদের তালিকার সারিতে প্রথমেই রেখেছেন সুকুমার রায়কে। এছাড়া সবার ভীষণ প্রিয় হুমায়ূন আহমেদতো রয়েছেনই। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এ লেখাও বেশ ভালো লাগে তার। একটা সময় ছিল যখন বই নিয়েই সবসময় একটা ঘোরের মধ্যে সময় পার করতেন। শেষ না হওয়া পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া সবকাজ বন্ধ থাকত। বই সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো বই সংগ্রহ করতে পারি না। তবে যে বইগুলো আমি উপহার পাই তা খুব স্বযত্নে আমি সংগ্রহ করে রাখি। শুটিং নিয়ে ব্যস্তার মধ্যেও এবারের বই মেলাতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই দেখা যেতে পারে অপু বিশ্বাস বই মেলার যেকোন স্টল থেকে বই কিনছেন।
পরীমণি বাংলা চলচ্চিত্রের নবাগত নায়িকাদের একজন। এরই মধ্যে বেশ আলোচনায় চলে এসেছেন পরীমণি। ‘শ্যুটিং নিয়ে বেশ ব্যস্ত থাকার কারণে এবারের বই মেলায় এখন যাওয়া হয়নি তার। গতবারের বই মেলায় যাই যাই করে শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি। যত কিছুই হোক এবারের বই মেলাতে আমি যাবোই। সবকিছু ছাপিয়ে আমিতো বই পাগল।’ বললেন পরী। রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ূন আহমেদসহ সমসাময়িক লেখকদের বই পছন্দ তার। তবে কোন লেখককে আলাদাভাবে তিনি দেখতে চাননা। বই সংগ্রহের প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি জানালেন হুমাযূন আহমেদের প্রায় ৩০০ বই তার সংগহে আছে। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ,নজরুল, সুনীল, সমরেশসহ অন্যনরাতো রয়েছেনই। তিনি বলেন, ‘আমাকে কেউ যদি বই উপহার দেয় তাতে তার নাম লিখে যত্নসহকারে রেখে দেই। আমার বড় একটি বুক সেলফ রয়েছে তাতে আমার সব বই সাজিয়ে রেখেছি।’
নওমি ক্ষুদে গানরাজ খ্যাত শিল্পী জারিন তাসনিম নওমি বেশ অল্প সময়ের মধ্যেই সঙ্গীতপ্রেমীদের নজর কেড়ে নিয়েছেন। সেই সঙ্গে দর্শকপ্রিয়তারও বেশ এগিয়ে চলছেন তিনি। বই মেলার কথা বলতেই জানালেন, ‘শুটিং নিয়ে ব্যস্ততার কারণে এ পর্যন্ত মাত্র একবার গিয়েছিলাম তাও সন্ধ্যার পরে। কিন্তু কোন বই কেনার সুযোগ পাই নি। তবে আমি কিন্তু খুব বই পড়ুয়া তা কিন্তু না। যখন যার বই হাতের কাছে পাই যদি পড়ে ভালো লাগে তা একবারেই শেষ করে ফেলি। তবে এর মধ্যে সময় করে আরেকদিন যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। ছোট বেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সুবাদে অনেক বই উপহার পেয়েছি। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ নজরুল হুমায়ূন আহমেদ এর বইসহ বেশ কিছু সংগীত সম্পর্কিত বই আমার সংগ্রহে রয়েছে। এছাড়া শীর্ষেন্দেু মুখোপাধ্যায়ের লেখাও আমার ভীষণ ভালো লাগে।
নির্ঝর সংগীত শিল্পী নির্ঝর সর্বশেষ বই মেলায় গিয়েছিলেন ১০ বছর আগে। এর কারণ ও বললেন তিনি, ‘বাংলাদেশের বাইরে থাকায় আর যাওয়া হয়ে উঠেনি। এবারও বই মেলা শেষের দ্বার প্রান্তে চলে এসেছে। এর মধ্যেই সময় করে বই মেলায় যাওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছেন। জাফর ইকবাল, হুমায়ূন আহমেদ এর বই আমার খুবই পড়তে ভালো লাগে। আর যদি বলি খুব প্রিয় তাহলে শহীদ আল বোখারি মহাজাতকের নামটি এক বাক্যেই বলে ফেলতে পারি। বই সংগ্রহের কথা বললে আমার মার কথা অবশ্যই বলতে হবে। বই সংগ্রহের বিষয়ে মা খুবই আগ্রহী। বই সংগ্রহের দিকটায় আমার কোন ওরকম খেয়ালী বিষয় নেই।
মডেল ও অভিনেত্রী ঈশানা এবারের বইমেলা উপলক্ষে সবার মন বেশ ভালো থাকলেও তার মনটা ভালো নেই। প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের আর কোন নতুন বই কেনা হবে না বই মেলা থেকে। নেওয়া হবে নতুন বই এ প্রিয় লেখকের আটোগ্রাফও। এবং বেশ মিস করছেন এ বই মেলাতে প্রিয় লেখকের অনুপস্থিতিটাকে। তাই এবারের বই মেলাতে আরেক প্রিয় লেখক জাফর ইকবালের বই কিনেছেন তিনি। হুমায়ূন আহমদের সকল বই সংগ্রহে থাকার বিষয়টিও জানালেন। এক কথায় হুমায়ূন আহমেদের লেখার অন্ধভক্ত বনে যাওয়া এ মডেল ও অভিনেত্রীর এবারের বই মেলাটা তাই বেশ রংহীন মনে হচ্ছে তার কাছে।

