পবিপ্রবি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ছাত্রলীগের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পেতে ছাত্রদল-শিবিরের অর্ধশত কর্মী মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শুরু থেকে ছাত্রলীগের ব্যানারে থাকা একনিষ্ঠ ত্যাগী নেতাকর্মীরা। ওই সব চিহ্নিত নেতাদের ছাত্রদলের ব্যানার নিয়ে তোলা ছবিগুলো পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ঝড় তুলছেন ছাত্রলীগের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের উচ্চপর্যায়ে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন পবিপ্রবির ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এক সময় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পক্ষে প্রকাশ্যে শোডাউন থেকে শুরু করে মিছিল-মিটিংসহ দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে ওই সব নব্য ছাত্রলীগ কর্মীরা। ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে এসব কর্মীরাই ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছাত্রী উত্ত্যক্ত করা ও শিক্ষক লাঞ্ছনার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলে নিজেকে আগামী দিনের ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শফিউল আলম ডালিম। কিছুদিন আগেও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন ডালিম। হল অভ্যন্তরে অন্তত ছাত্রদল-ছাত্রলীগের পাঁচটি মারামারিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। একটি ঘটনায় দুমকি থানায় মামলা হয় তার নামে। সেই ডালিম এখন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। ছাত্রী উত্ত্যক্ত, মাদক ব্যবসা, সিট বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারী, সেমিস্টার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে এই ছাত্রদল ক্যাডারের বিরুদ্ধে।
কেরামত আলী হলে হলের শফিকুল ইসলাম নামে একজন বর্তমানে ছাত্রলীগের কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি এর আগে ছাত্রশিবিরের হয়ে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলে বর্তমানে ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে কাজ করছেন কৃষি অনুষদের বিভাগের রনি, কিরণ ও জীবন। এর আগে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একাধিক মিছিলে যোগদান করেছেন।
কেরামত আলী হলের শিবিরকর্মী প্রিন্স, মামুন, মহসীন এখন ছাত্রলীগে সক্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমন বলেন, ‘এমন অভিযোগ সত্য নয়। তবে ছাত্রলীগে কিছু অনুপ্রবেশকারী থাকতে পারে। ছাত্রলীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনে যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী পদ না পায়, সে ব্যাপারে পবিপ্রবি ছাত্রলীগ সতর্ক রয়েছে।’

