বইমেলার দুয়ার খুলেছে গত বৃহস্পতিবার। সেই হিসাবে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পাঁচদিন পার করলো প্রাণের এ মেলা। শুরুর পর দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে টানা তিনদিন লেখক-পাঠক-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল বইমেলা। রবি-সোমবার কর্মদিবসেও উৎসবমুখর ছিল বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। মানুষের সমাগম হলেও বিক্রি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় লেখক-প্রকাশকরা। তবে মেলার প্রথম সপ্তাহেই এত ভালো বিক্রি, গেলো কয়েক বছরে হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
লেখক-প্রকাশকরা বলছেন, প্রতি বছরই মেলার প্রথম সপ্তাহে তেমন বই বিক্রি হয় না। অনেকে দেখে চলে যান, অনেকে পছন্দের বইয়ের তালিকা করে রাখেন। আবার অনেকে ছাড়ের অপেক্ষায় থাকেন। তবে এ বছর ভিন্নচিত্র দেখা যাচ্ছে। মানুষ আসছে যেমন বেশি, তুলনামূলক বিক্রিও ভালো।
জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আজিম উদ্দিন। তিন বছর তিনি এ প্রকাশনীর সঙ্গে কাজ করছেন। বইমেলার পুরোটা সময় থাকেন স্টলে। তিনি বলেন, ‘মেলার প্রথম সপ্তাহেই এবার প্রচুর চাপ। কাজের চাপে এক মিনিটও দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছি না। মানুষ স্টলে আসছেন, দেখছেন। বই কেনার আগ্রহও অনেক বেশি।’
উৎস প্রকাশনের সত্ত্বাধিকারী মোস্তফা সেলিম বলেন, ‘মেলা ভালো চলছে। বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। মানুষের আনাগোনা এবার আশা জাগাচ্ছে। অনেকে অনলাইনে দেখে নাম উল্লেখ করে বই চাইছেন। কেউ কেউ কিছুটা ডিসকাউন্ট চাচ্ছেন। দরদামে হলে বই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।’
প্রথম সপ্তাহের হিসাবে বিক্রি খুবই ভালো বলে মনে করেন সময় প্রকাশনের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিক্রি এবার শুরু থেকেই খুব ভালো। স্টলের কর্মীরা বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রথম সপ্তাহে এমন বিক্রি সাধারণত দেখা যায় না। অন্যদের (প্রকাশক) সঙ্গেও কথাবার্তা হচ্ছে, তাদেরও বেশ ভালো বিক্রি।’
প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী উম্মে সালমা বলেন, ‘স্টল খোলার আগ থেকেই অনেকে আজ অপেক্ষা করছিলেন। খোলার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় লেগেছে। সবসময় পাঠকদের উপস্থিতি দেখছি। আমার ধারণা—৬০ শতাংশ পাঠক বই কিনে নিয়েই ফিরছেন।’
প্রকাশক, বিক্রয়কর্মীদের মতো উচ্ছ্বসিত লেখকরাও। ‘আমার হুমায়ূন স্যার’ বইয়ের লেখক জনপ্রিয় অভিনেতা ডা. এজাজ। বইটি প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। মেলায় সময়ের স্টলে ব্যস্ত সময় কাটছে ডা. এজাজের। পাঠকদের নানা আবদার হাসিমুখে মেটাচ্ছেন তিনি।
ডা. এজাজ বলেন, ‘সময় পেলে সময় প্রকাশনের স্টলে এসে বসছি। অনেকে নানান আবদার করছেন। ছবি তুলছেন, অটোগ্রাফসহ বই কিনছেন। নিজেদের অনুভূতি জানাচ্ছেন। এটাকে আমি ভালোবাসা হিসেবে দেখছি। আমি মনে করি—তারা আমাকে নয়, হুমায়ূন স্যারকে ভালোবেসে বইটি কিনছে বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।’
তবে ভিন্ন কথাও জানিয়েছেন অনেক স্টলের বিক্রয়কর্মীরা। সত্যয়ন প্রকাশনীর আতিকুর রহমান বলেন, ‘বড় স্টল এবং প্যাভিলিয়নগুলোতে সবসময় বিক্রি বেশি। স্টল জাঁকজমকপূর্ণ হওয়ায় সেদিকে মানুষের ভিড়ও বেশি। মেলার কিছু স্টলে যেমন ভিড় ও বিক্রি বেশি, তেমনি কিছু স্টল ফাঁকা। বিক্রিও নেই সেখানে। এটা প্রতিবারই হয়।’
এবার বইমেলায় ৫৭৩ প্রতিষ্ঠানকে ৮৯৫টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৭৮৬টি সাধারণ স্টল এবং ১০৯টি স্টল লিটল ম্যাগাজিন চত্বরকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এবছর ৩৭টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মেলা ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাসব্যাপী সেমিনারের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য ছবি আঁকা, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুপ্রহরে থাকছে আকর্ষণীয় সিসিমপুরের প্রদর্শনী।

