* মামলা দায়েরে পুলিশের গড়িমসি
গাজীপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রিয়াজুল ইসলাম পিয়াস (২১) নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে গাজীপুর সিটির ৩১নং ওয়ার্ড ভারারুল (চান্দের বাজার) এলাকার মো. চাঁন মিয়ার ছেলে। এ ব্যাপারে রিয়াজুল ইসলাম পিয়াসের পিতা চাঁন মিয়া জিএমপি’র সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- একই এলাকার মৃত মিন্নত আলীর ছেলে মো. শুকুর আলী ও তার তিন ছেলে মো. হাছেন আলী (৩৩), মহাব্বিজ আলী (২৮) ও হোছেন আলী (৩০)। কিন্তু পুলিশ মামলা দায়েরে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এরা প্রত্যেকেই এলাকায় খুবই উচ্ছৃঙ্খল এবং ঝগড়াটে প্রকৃতির লোক। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁন মিয়া ও তার পরিবারের লোকজনদের সাথে শত্রুতা করে আসছে। গত ১৮ জানুয়ারি দুপুরে চাঁন মিয়ার বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে জজ মিয়ার পতিত জমিতে বসে রিয়াজুল ইসলাম পিয়াস এবং স্থানীয় মহানন্দের ছেলে গনেশ (২৫) অজিত্যর ছেলে অনিক (২১) গল্প করছিলো। এমতাবস্থায় উক্ত জমিতে এসে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মো. শুকুর আলীসহ তার তিন ছেলে মো. হাছেন আলী, মহাব্বিজ আলী, হোছেন আলী তাদের ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রিয়াজুল ইসলাম পিয়াসের উপর আক্রমণ করে। পরে হাছেন আলীর হুকুমে মহাব্বিজ আলী তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে রিয়াজুল ইসলাম পিয়াসকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথার বাম পাশে সজোরে কোপ মেরে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে হাছেন আলী, হোছেন আলী এবং শুকুর আলীর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে রিয়াজুল ইসলাম পিয়াসকে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে তার দুই পায়ের রানে, পিঠে, দুই হাতের বাহুতে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফোলা জখম করে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে চাঁন মিয়ার ভাতিজা জুয়েল ও আশপাশের লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়াজুল ইসলাম পিয়াসকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় রিয়াজুল ইসলাম পিয়াসের বাবা জানান, এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার কারণে এরা বাবা ছেলে আমাদের পরিবারের সাথে বিনা কারণে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকে। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। এদিকে এ ন্যাক্কারজনক হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
বিষয়টি দৈনিক পাঞ্জেরীর গোচরীভূত হওয়ায় গাজীপুর সদর থানার ওসি রাফিউল ইসলামকে বারবার অনুরোধ করা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি।

