ঢাকাWednesday , 24 January 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ সাধক কবি মহর্ষি মনোমোহন দত্তের ১৪৬তম জন্মোৎসব

Link Copied!

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাধক কবি মহর্ষি মনোমোহন দত্তের ১৪৬ তম শুভ আবির্ভাব উৎসব আজ। প্রতি বছর বাংলা পঞ্জিকা মতে ১০ই মাঘ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামে মহর্ষি মনোমোহন দত্তের জন্মোৎসব পালন করা হয়। জন্মোৎসব উপলক্ষ্যে দেশ এবং ভারতের ত্রিপুরা ও কলকাতা থেকে প্রায় লক্ষাধিক ভক্ত ও মলয়া প্রেমিকের আগমন ঘটে সাতমোড়া গ্রামে।

মহর্ষি মনোমোহন ছিলেন একজন মরমী সাধক। একাধারে কবি, দার্শনিক ও সমাজ সংস্কারক। মরমী সাধক বা দার্শনিক হিসেবে তার যত না পরিচিতি তার চাইতে অধীক পরিচিতি ‘মলয়া সংগীতের প্রবক্তা হিসেবে।

মহর্ষি মনোমোহন একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন তারমধ্যে মলয়া ১ম খণ্ড, মলয়া ২য় খণ্ড, যোগ- প্রণালী, ময়না বা পাগলের প্রলাপ, খনি, পাথেয়, লীলা রহস্য বা আত্মচরিত, প্রেম পারিজাত, প্রীতিকদম্ব, তপোবন ও উপবন। মহর্ষি মনোমোহন দত্ত মাত্র ৩১ বছর ৮ মাস আয়ুষ্কালে আট শতাধিক গান ও গ্রন্থগুলো রচনা করেন। মহর্ষি মনোমোহন দত্তের গানগুলোর সুরারোপ করেন প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আলাউদ্দিন খাঁ এর জৈষ্ঠভ্রাতা
আফতাবউদ্দিন খাঁ।

মহর্ষি মনোমোহন দত্তের গুরু ছিলেন মহারাজ আনন্দ স্বামী। মনোমোহন দত্তের কর্মে, ধ্যানে, সাধনে, মননে, চৈতন্যে, জীবনাচরণে মহারাজ আনন্দ স্বামী ছিলেন পথদ্রষ্টা- আদর্শস্বরূপ। মহর্ষি মনোমোহন নিজ গুরুদেবের নামেই আনন্দ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে।

মনোমোহন তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন তারই গ্রামের এক বৃদ্ধ রামজীবন চক্রবর্তী ব্রাহ্মণের পাঠশালায়। পরবর্তীতে তিনি গ্রামের স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাস করেন। তিনি মোক্তারি সম্বন্ধে শিক্ষালাভ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

মহর্ষি মনোমোহন সাধ্বী সৌদামিনী দত্তের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবব্ধ হয়। মনোমোহনের ঔরসে সাধ্বী সৌদামিনীর গর্ভে ১৩১৫ সনের ২৭ আশ্বিন জন্মগ্রহণ করেন একমাত্র পুত্রসন্তান সুধীরচন্দ্র দত্ত।

মনোমোহন দত্তের চিন্তাভাবনার পরিচয় তার গানেই পাওয়া যায়। সমকালীন নানা কুসংস্কার, সামাজিক বিভেদ, সাম্প্রদায়িকতাসহ বিভিন্ন কুপ্রথার বিরুদ্ধে তিনি গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ তুলে ধরেন। তার গানে স্রষ্টা ও সৃষ্টির অলৌকিক সম্পর্কও খুব সাবলীলভাবে ফুটে উঠে। তার গান নিয়ে শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় নাট্যশালাসহ দেশের বিভিন্ন শীর্ষ স্থানীয় সংস্থা বিভিন্ন সময় গবেষণাসহ স্মরণনভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারের অনুসারীরা মনমোহনের ভাব সঙ্গীতের দ্বারা বেশ প্রভাবিত। তার স্বল্প জীবনকালে প্রায় হাজার খানেক গান, কবিতা এবং আধ্যাত্মিক সাধন প্রণালী এবং মনুষত্ত্ব অর্জনের পথের দিশা সংক্রান্ত গান লিখে গেছেন।

মহর্ষি মনোমোহন দত্ত ১৩১৬ বঙ্গাব্দের ২০শে আশ্বিন মৃত্যুবরন করেন।