ঢাকাSunday , 21 January 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হুব্বা: সামথিং লাইক আ ক্রিমিনাল’স অটোবায়োগ্রাফি!

বিনোদন ডেস্ক
January 21, 2024 5:58 pm
Link Copied!

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার এক সময়ের ত্রাস হুব্বা শ্যামলের জীবন নির্ভর ছবি ‘হুব্বা’। অনেকবার দেখা গ্যাংস্টার নির্ভর কিংবা ‘ডন’ টাইপের আরেক নতুন ছবি ‘হুব্বা’। ব্রাত্য বসু পরিচালিত ও মোশাররফ করিম অভিনীত পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মানুষের নজরে আসা এক ছবি ‘হুব্বা’। ফিল্মি বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব এক ছবি ‘হুব্বা’। প্রিয়তম মানুষের বেঈমানি আর সন্ত্রাসের সমান্তরালে পুলিশি জীবনের ছোট্ট কিন্তু বাস্তবতার এক ছবি ‘হুব্বা’। সন্ত্রাসকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল এবং ব্যবহার করা হয়ে গেলে টিস্যু পেপারের মতো ছুঁড়ে ফেলার যে বাস্তবতা সেই বাস্তবতার আরেক ছবি ‘হুব্বা’। খানিক যৌন সুড়সুড়ি, গান আর মারপিট নির্ভর পুরোদস্তুর এক কমার্শিয়াল ছবি ‘হুব্বা’। ‘ডিকশনারী’র পর ব্রাত্য বসু ও মোশাররফ করিম জুটির দ্বিতীয় ছবি ‘হুব্বা’।

প্রথমেই বলা হয়েছে হুগলীর কোন্নাগর আর রিষড়া এলাকার এক সময়ের সন্ত্রাসী যার নাম ছিল হুব্বা শ্যামল, তিনি যেন এই ছবির হুব্বা বিমল। সন্ত্রাসী বা গড ফাদারদের উত্থান যেমন সিনেমাটিক, হুব্বার বেড়ে ওঠা তার বিপরীতে অনেকটাই বাস্তব ঘেঁষা। স্কুল জীবন থেকেই তার বখে যাওয়া। প্রথমে ছিঁচকে চুরি, তারপর চাকু বা ড্যাগারবাজি, বাসা আটকে কেউ বেড়াতে গেলে তার বাসা লুট, বাবার মিলের ক্যাশিয়ারকে ছুরি মেরে টাকা ছিনতাই এবং ট্রেনের বগি লুট। হুব্বার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কাহিনি এমনই। হুব্বার অপরাধের সাথী তার কিশোর বেলার বন্ধুরাই, যারা তার সাথে বড় হয়ে ওঠে।

হুব্বা খুবই ধূর্ত। সে পঞ্চাশটা সিম ব্যবহার করে। পুলিশ তার নাগাল পায় না। হুব্বার পিছু নেয় পুলিশ অফিসার (আইপিএস অফিসার) দিবাকর সেন। পুলিশ বার বার ব্যর্থ হবার পরেও এক সময় ধরা পড়ে হুব্বা। তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর পর জানা যায় তার অপরাধ জগতে আসার কাহিনী। বাংলাদেশে যেমন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অপরাধ প্রমাণের জন্য সাক্ষী মেলে না, ঠিক তেমনই সাক্ষীর অভাবে বছর খানেক পরে ছাড়া পেয়ে যায় হুব্বা। এরপর শুরু হয় তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের যুগ। পুলিশও বসে থাকে না। একসময় খালের জলে পাওয়া যায় হুব্বার মৃতদেহ!
‘হুব্বা’র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। কিশোর বা স্কুলের অংশ বাদ দিলে পরিণত হওয়ার আগে হুব্বার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন গম্ভীরা ভট্টাচার্য। পুলিশ অফিসার দিবাকর সেনের ভূমিকায় ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত এবং হুব্বার বন্ধু বাপী ও উমেশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন লোকনাথ দে এবং অনুজয় চ্যাটার্জি। হুব্বার প্রথম স্ত্রী তাপসী এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মিতালীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিনিয়া রায় এবং অস্মিতা মুখার্জি। হুব্বার চরিত্রে দাপটের সাথে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম।
হুব্বাময় এই ছবিতে মোশাররফের অভিনয়ের বাইরে বাড়তি কী আছে সেই প্রশ্নও তুলতে পারেন কোনও কোনও দর্শক। সারা ছবিতে বাংলাদেশি বাংলাটান ছিল না তার উচ্চারণে। হুব্বার কিশোর কাল ও খানিক পরিণত বয়সের অংশে গম্ভীরাও বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। ভালো অভিনয় করেছেন ইন্দ্রনীলও। তেমন পরিচিত মুখ না হলেও লোকনাথ, অনুজয়, জিনিয়া ও অস্মিতা ভালো অভিনয় করেছেন। জিনিয়া রায়ের অভিনয় চোখে লাগার মতো।
ছবির গানগুলোও বিনোদন মূলক। ‘সব নষ্ট লোক, সব দুষ্ট লোক’ শিরোনামের গানটা মজার। ছবির সংলাপ ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ব্রাত্য বসু ও সুপ্রতিম সরকার। এই ছবির শুটিং হয়েছে হুগলি, দমদম ও রাজারহাটে।
এ ছবির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হুব্বার জীবনের সাথে পুলিশ অফিসার ইন্দ্রনীলের জীবনের মিল খোঁজা। যদিও সেটা করা হয়েছে খুব ছোট পরিসরে। যেমন জীবন বাঁচাতে হুব্বা তার বাবা ও মাকে জলাঞ্জলি দিতে কার্পণ্য করে না। ঠিক তেমনি ইন্দ্রনীলও তার ভাইয়ের সংলাপ বিনিময়ে জানা যায়, তাদের দুজনই ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছে এবং কেউ তাদের মায়ের দায়িত্ব নিতে চায় না। মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর কথাও বলে তারা। একইভাবে হুব্বার দুই বিয়ের কথা ও নায়িকা কেন্দ্রিক বান্ধবীদের কথা শুনে নিজের পরকীয়ার কথাও মনে পড়ে ইন্দ্রনীলের।
ছবি দেখে মনে হতে পারে ‘ডন’ এক বা দুইকে মাথায় রেখে এই ছবি বানানো হয়েছে। যদিও ‘ডন’ এর গল্প ফিল্মি এবং মনে হতে পারে অতিরঞ্জিত। সেই তুলনায় হুগলীর হুব্বার জীবন বাস্তবতা পূর্ণ। মনে হবে, সামথিং লাইক আ ক্রিমিনাল’স অটোবায়োগ্রাফি এটি। ছবির নাচ আর গান বাদ দিলে যৌনতা ও সংলাপ প্রশ্নবিদ্ধ হতেই পারে। গালি বা খিস্তি সরাসরি রাখা হয়েছে এবং যৌন সুড়সুড়িমূলক দৃশ্যগুলো সমালোচনা বা পরিবারকেন্দ্রিক দর্শক হারানোর কারণ হতে পারে।