বিনোদন ডেস্ক : বিদ্রোহী নায়ক, শব্দটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মনের মধ্যে ভেসে ওঠে প্রেমিকার বাবার সঙ্গে বিদ্রোহকারী কোন প্রেমিকের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু ক্যামেরার বাইরে গিয়েও একজন নায়ক বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারেন, তার একমাত্র উদাহরণ চিত্রনায়ক মান্না। তিনি বিদ্রোহী, কারণ অশ্লীল চলচ্চিত্র নিমার্ণের বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ৭ বছর আগে আজকের দিনে অসংখ্য ভক্তকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন এ অভিনেতা।
১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্ম নেন মান্না, পুরো নাম এস এম আসলাম তালুকদার। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করার পরই জানতে পারেন চলচ্চিত্রের জন্যে নতুন মুখ খোঁজা হচ্ছে। সেটা ছিলো ১৯৮৪ সাল, তথনই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান। শুরু হয় একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই। ফলাফল হিসেবে প্রায় ২ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি চিত্রনায়ক মান্নার আকস্মিক মৃত্যুটা এখনও অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। কারণ মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি সারারাত শুটিং করেছিলেন। অথচ সকাল বেলা জানা গেল তিনি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আর বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই মান্না নেই! এমন সংবাদের জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। তাই প্রিয় নায়ককে শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য ভক্তদের সে কি উন্মাদনা। এফডিসিজুড়ে স্বজনদের আহাজারি।
পর্দায় প্রতিবাদী নায়ক মান্না বাস্তব জীবনে ছিলেন বিদ্রোহী। কারণ সেসময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার অশুভ ছায়া এসে পড়েছিলো। সে ছায়ায় সমসাময়িক অনেক নায়ক নায়িকা তলিয়ে গেলেও, বিদ্রোহ করেন মান্না। তিনি জানতেন অশ্লীলতা দিয়ে চলচ্চিত্রে টিকে থাকা তো যাবেই না, বরং চলচ্চিত্রই ধ্বংস হয়ে যাবে। তার চেষ্টাতেই তখন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকে এর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন। ফলফল হিসেবে কয়েক বছরের মধ্যে বাংলা চলচ্চিত্র থেকে অশ্লীলতা দূর হয়।
মান্না অভিনীত ‘দাঙ্গা’, ‘লুটতরাজ’, ‘তেজী’, ‘আম্মাজান’, ‘আব্বাজান’ প্রভৃতি চলচ্চিত্রগুলোর নাম এখনও মানুষের মুখে মুখে রয়ে গিয়েছে। তার অভিনীত আম্মাজান চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি। মান্না শুধু চলচ্চিত্র অভিনেতাই ছিলেন না, তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে যতগুলো ছবি প্রযোজনা করেছেন, প্রতিটি ছবি ব্যবসাসফল হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ‘লুটতরাজ’, ‘লাল বাদশা’, ‘আব্বাজান’, ‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘দুই বধু এক স্বামী’, ‘মনের সাথে যুদ্ধ’, ‘মান্না ভাই’, ‘পিতা মাতার আমানত’ উল্লেখযোগ্য। মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মান্নার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে শিল্পী সমিতি। এফডিসিস্থ আর্টিস্ট স্ট্যাডি রুমে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে (বাদ আসর) উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

