প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেছেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর মতো বড় কাজে অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কারণ পদ্মা সেতুর মতো এমন জটিল ও বড় কাজ বাস্তবায়ন আগামী একশ বা দেড়শ বছরেও হবে না।
শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত ‘শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু নির্মাণ: বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ তথা উন্নয়নশীল দেশসমূহের এক যুগান্তকারী বিজয়’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের বৈশিষ্ট্য আছে, তারা ঝুঁকির দিকে যাবে না। মোটামুটি যেখান থেকে সহজেই লাভটা তুলে নিতে পারবে, সেখানেই তারা যাবে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবি যখন পিছিয়ে গেলো, প্রধানমন্ত্রী ঠিক করলেন, তিনি জাপান যাবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি পদ্মা, রূপসা আরও দুই একটা সেতু সম্পর্কে বলেন। তারা পদ্মা সেতুতে রাজিও হয়। কিন্তু রাজি হওয়াটা ‘আমরা তোমাদের অনুরোধ শুনলাম। আমরা জানাবো’ ঠিক এমন।
পদ্মা সেতুর শুরুর সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জাইকার এক প্রতিনিধি আমাকে বললো দুদিনের ভেতর আমাদের জানাতে হবে কোন বড় প্রকল্পটা নিতে চাও। কারণ আমরা বাজেট ঠিক করবো। তখন সংসদ অধিবেশন চলছে। প্রধানমন্ত্রী একদিন সংসদে যাচ্ছেন। তখন আমাকে ডাকলেন। প্রধানমন্ত্রীকে এটা জানানোর পর তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, কার বাড়ি যেতে কতক্ষণ লাগবে। পদ্মা সেতু হলে কোন জেলার কার বাড়ি যেতে কতক্ষণ লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা হলো, এই কল্যাণটা দেশের মানুষের কাছে কতটুকু ছড়াবে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের পুরোনো সম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাপান সরকারকে অনুরোধের বিষয়টি কেন আসলো। বঙ্গবন্ধু ৭৪ সালে জাপানে যান। তখন জাপান সরকারকে তিনি যমুনা সেতুর কথা বলেন। জাপান তখন রাজি হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য শেখ হাসিনা জাপানের কথাই মাথায় নেন। ভাগ্যক্রমে যখন বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন হয়, তিনিও তখন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক যদি কোনো দুর্নীতির গন্ধ পায় তখন নাকি জাইকা ও এডিবিও পাবে। তখন তারা টাকা ছাড় বন্ধ করলো। কিন্তু বিশ্বব্যাংক কোনো কোর্টে যেতে পারবে না। কারণ তারা যার কাছ থেকে তথ্য পাচ্ছে, তাদের কখনো সামনে আনবে না। আনতেও পারবে না।
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. মসিউর বলেন, একবার কোথাও উন্নয়ন শুরু হলে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষাও বাড়ে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যে উন্নয়ন শুরু হয়েছে, এটা বাড়বে। মোংলা বন্দরের উন্নয়ন করা হবে। কিন্তু মোংলায় অনেকগুলো সীমাবদ্ধতা আছে।
ড. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সময় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।
এছাড়া সেমিনারে আলোচনা করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, অর্থনীতিবিদ ড. এম খলিকুজ্জামান, পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য, পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু প্রমুখ।

