বস্তির আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবকিছু শেষ হলেও বইয়ের কষ্ট যেন ভুলতেই পারছে না। বইয়ের সঙ্গে নিজের স্বপ্ন পুড়ে গেছে বলে কান্না করে যাচ্ছে দশম শ্রেণির ছাত্রী রাজিয়া আক্তার।
রোববার রাতে রাজধানী কল্যাণপুরের বেলতলা এলাকার ৯ নম্বর বস্তির আগুনে প্রায় ৩০০ ঘর পুড়ে গেছে। আগুনে পুড়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন সহস্রাধিক মানুষ।
দেড় বছর আগে দোহার থেকে ঢাকায় আসে রাজিয়া। কল্যাণপুর ফজিলাতুন্নেছা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। বর্তমানে দশম শ্রেণির ছাত্রী। বস্তিতে মায়ের কাছে থেকে পড়ালেখা করে।
কান্না করে রাজিয়া বলেন, আগুনে সোনার গহনাসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই পুড়ে গেছে। এতে কষ্ট নেই। আমার পড়ার বই ও গাইড পুড়ে যাওয়ায় কষ্ট ভুলতে পারছি না। আমার বুঝি আর পড়াশোনা করা হবে না। কে আমাকে আবার বই দেবে, আমি কি আবার স্কুলে যেতে পারবো?
‘গতকাল সকাল ৮টায় স্কুলে গিয়েছিলাম। দুপুরে বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে সন্ধ্যা থেকে পড়তে বসি। রাত ৮টার দিকে বাইরে চিল্লাচিল্লি শুনতে পাই। কেউ ঝগড়া করছে মনে করে বাইরে বের হইনি। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বের হয়ে দেখি চারদিকে আগুন। এরপর আর ঘরে ঢোকার মতো সুযোগ হয়নি।’
রাজিয়া বলেন, নিজেকে রক্ষা করতে নিরাপদ স্থানে চলে যাই। নিজের মোবাইলটাও সঙ্গে নেওয়া সম্ভব হয়নি। আগুনে পুড়ে যায় ফোনটা। কিছুক্ষণের মধ্যে সবই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তখন মা-বাবা বস্তিতে ছিল না। ফোন না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।
‘পড়ালেখা শেষ করে নিজেকে স্বাবলম্বী করবো বলে স্বপ্ন দেখি। আমার বই-খাতার সঙ্গে আমার সেই স্বপ্ন পুড়ে গেছে। কিভাবে আমি স্কুলে যাব, কোথায় বই পাব, কে আমাদের সাহায্য করবে বলে কান্না করেন।’
পুড়ে যাওয়া বস্তির আগুনের স্তুপের মধ্যে বইয়ের পাতা খুঁজছেন আর দু’চোখের অশ্রু ফেলছেন। তার মতো এমন অনেকে সব পুড়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে আগুনের স্তুপের মধ্যে আর্তনাদ করতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বস্তিতে প্রায় ৩০০ ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে শতাধিক মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ পরনের জামা কাপড় নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ায় ঘরের মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় জিনিস উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে এসব পরিবারের সদস্যরা।
রোববার রাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

