রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের সব থেকে ব্যয়বহুল প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল (আরএনপিপি) স্থাপন করা হয়েছে। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচের এই প্রকল্পে ৯০ ভাগ টাকা ঋণ দিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ফলে এই প্রকল্পে কোনো প্রভাব পড়বে কি না- এমন সন্দেহ ছিল অনেকেরই। তবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
বুধবার (২ মার্চ) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। এর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সভায় উন্নয়ন বাজেট বা সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) উপস্থাপন করা হয়। পরে উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কোভিডের সময়ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ ছিল না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। ওই ধরনের (কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন) হাওয়া লাগেনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তৃতীয় কোনো পক্ষ নেই। সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছি। ফলে আপাতত সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না।
‘যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে প্রভাব পড়বে কি না- পন্ডিত ব্যক্তিরা তা বলতে পারবেন। আমরা এটা নিয়ে বলতে পারবো না।’
রাশিয়ার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় শান্তির পক্ষে, রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের বিরুদ্ধে। আমরা শান্তিকামী দেশ। উভয় দেশ আমাদের। তবে রাশিয়া সবসময় বাংলাদেশের পাশে আছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাশিয়া আমাদের সহযোগিতা করেছে। রাশিয়া সাহায্য না করলে যুদ্ধের সময় আরও হাতহত হতো। তবে কিছু গরম হলে হিটতো লাগবেই। সেই পর্যায়ে আমরা এখনো পৌঁছায়নি।
যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে প্রভাব পড়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারে আমার বিনিয়োগ নেই। এটা নিয়ে কম জানি। তবে কিছুটা ওঠানামা করেছে বলে শুনেছি। বাজার নেমেছিল আবারও বেড়ে উঠেছে। আবারও উঠবে। শেয়ারবাজারের পতন যুদ্ধে সরাসরি জড়িত নয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে কিছুটা তাপ আছে কি না এটা সংশ্লিষ্টরা বলবেন।

