নিজস্ব প্রতিবেদক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না এক যৌথ বিবৃতিতে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত এবং উপাচার্য ড. মিজানুর রহমানের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
তারা বলেন, ছাত্রলীগের আজ্ঞাবহ এবং যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যাপীঠকে তিনি একটি দলীয় সংগঠনের কার্যালয়ের মতো পরিচালনার অপচেষ্টা করছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা নষ্ট করে সন্ত্রসী, খুনি, চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজ ও ধর্ষকদের অভয়ারণ্যে পরিনত করেছেন। আমরা সকল ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন এই অন্যায় ও অবিচারের প্রতিবাদ করে আসছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নায্য ও যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে দলীয় ও আজ্ঞাবহ উপাচার্যের ছত্রছায়ায় এই পবিত্র বিশ্ববিদ্যালয়কে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে।
২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্র (আসাদুজ্জামান রানা দর্শন বিভাগ, মাযহারুল ইসলাম রাসেল ও আল আমিন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ) গুম হয়। কিন্তু ওই উপাচার্য তাদের সন্ধানে কোনো কথা সরকার বা পুলিশ প্রশাসনকে জানায়নি।
তারা বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের অব্যহত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনের ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনসহ সারাদেশ এখন মৃত্যুপুরী। বিগত আওয়ামী সরকারের ৫ বছর ও ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনে গঠিত সরকারের ১ বছরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই খুন হয়েছে প্রায় ৫০ জনের অধিক মেধাবী ছাত্র।
ছাত্রদলের এ দুই নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা সবসময় প্রশংসিত। ১৯৫২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে এই বিশ্ববিদ্যালয় ও এর ছাত্রছাত্রীরা। তাই তোমরা যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারা কেমন করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যায়, অবিচার আর অগণতান্ত্রিক পরিবেশ মেনে নিতে পারো? দেশের মানুষ যেখানে তোমাদের কাছ থেকে ন্যায়, নিষ্ঠা আর সহমর্মিতা আশা করে সেখানে কিভাবে আমরা একটি জঙ্গি ছাত্র সংগঠনের কাছে জিম্মি হয়ে যেতে পারি। ছাত্রলীগের অব্যাহত চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এলকার দোকানদার ও ব্যবসায়ী সমাজ। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরাও। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকেও নির্যাতন করছে। নির্যাতন, চাঁদাবাজি আর ভর্তি বাণিজ্য ছাত্রলীগের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সেই ছাত্রলীগ আজ অবৈধ সরকারকে রক্ষায় মরিয়া হয়ে পেট্রোল বোমা আর ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে।
তারা বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ফটক থেকে দর্শন বিভাগের ছাত্র নয়ন বাছেরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে গুলি করে। বর্তমানে সে পুলিশ প্রহরায় পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। পক্ষপাতুষ্ঠ উপাচার্যের অযোগ্যতার কারণে জবির শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস প্রায়। শত বছরের ঐতিহ্যে লালিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব উজ্জল ভূমিকা আমরা লঙ্গিত হতে দিতে পারি না। তাই এই অবৈধ সরকারের মানুষ হত্যা, জুলুম নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অযোগ্য দালাল উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘটরে ডাক দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

