স্পোর্টস ডেস্ক : পাঁচ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৫। পর্তুগালের সান্টো অ্যান্টোনিও শহর। মারিও ডোলোরেস দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। কী নাম রাখা যায়? আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ও অভিনেতা রোনাল্ড রিগ্যানের ভীষণ ভক্ত ছিল ঐ সন্তানের বাবার। ব্যাস, তার নামের সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নামও রেখে দিলেন রোনালদো। পুরো নাম, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দোস সান্তোস অ্যাভেইরো।
বাবার ভাবনা ছিল ছেলে অনেক বড় হবে রোনাল্ড রিগানের মতো। হয়েছে ঠিকই। তবে প্রেসিডেন্ট কিংবা অভিনেতা নয়, বর্তমান গ্রহের সবচেয়ে তারকা ফুটবলার। খেলছেন স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে। কিছুদিন আগেই জিতেছেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা ব্যালন ডি‘অর, সব মিলিয়ে তিনটি। গোলের পর গোল করে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুঁটছেন সিআরসেভেন। আজ পর্তুগিজ এই তারকা উইঙ্গারের জন্মদিন। ৩০ এ পা দিলেন রিয়াল সুপারস্টার। শুভ জন্মদিন… ক্রিশ্চিয়ানো।
এলাম, দেখলাম, জয় করলাম; ব্যাপারটি এমন নয় রোনালদোর। দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আসার আগে স্বদেশী তিন ক্লাবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে হয়েছে তাকে। ২০০৩ সালে ওল্ডট্রাফোর্ডে ঢুকার পর স্যার আলেক্স ফার্গুসনের চোখে পড়ে রোনালদোর নৈপুন্য। এরপরই ক্রমাগত উত্থান। ম্যানইউতে থাকাকালীনই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো জেতেন ফিফা ব্যালন ডি‘অর, ২০০৮ সালে। ফর্ম তখন তুঙ্গে। রেকর্ড ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডে পাড়ি জমান রিয়াল মাদ্রিদে। ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত লস ব্লাঙ্কস দলের তূরুপের তাস তিনি। জিতেছেন লা লিগা, স্বপ্নের লা দেসিমা (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ)সহ নানা শিরোপা। ব্যক্তিগত সাফল্যও এসেছে দুই হাত ভরে। এখান থেকেই জিতেছেন দুটি ফিফা ব্যালন ডি‘অর। আর গোলের পর গোল করে গড়েছেন নানা রেকর্ড।
মাদ্রিদে ৩০তম জন্মদিন পালন করেছেন রোনালদো। তবে তা অনেকটাই অনাড়ম্বর পরিবেশে। কারণ এই মুহুর্তে খুব একটা ফুরফুরে মেজাজে নেই তিনি। কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হয়েছে গেছে দীর্ঘদিনের বান্ধবী ইরিনা শায়েকের সঙ্গে। সম্প্রতি লা লিগায় প্রতিপক্ষের গায়ে লাথি ও ঘুষি মারায় হয়েছেন দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ। সব মিলিয়ে রোনালদোর ৩০তম জন্মদিনটা ভিন্ন আবহেই কাটছে।
বুধবার রাতে সেভিয়ার বিরুদ্ধে রিয়াল জিতেছে ২-১ গোলে। তবে দর্শক হিসাবেই এই ম্যাচ দেখতে হয়েছে রোনালদোকে। তবে খুব দ্রুতই আবার মাঠে দেখা যাবে সিআরসেভেনকে।

