নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকার উদ্যোগে ৫৭তম ভারতীয় কারিগরি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা (আইটেক) দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।
ভারতীয় হাইকমিশন এর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী বিক্রম দোরাইস্বামী। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল এবং আইটেক এলামনাই এর বিভিন্ন সদস্যগণ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের নানা প্রাসঙ্গিক দিক তুলে ধরেন।

১৯৬৪ সালে ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কৌশল কাঠামোর আওতায় ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইটেক কর্মসূচি প্রচলিত হয়। যার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ভারতের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও উপযুক্ত প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর হিসাব, নিরীক্ষা, ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, গ্রামীণ উন্নয়ন, সংসদীয় বিষয়াবলীর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য ১৬১টি সহযোগী দেশে ১০ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণ পর্বের আয়োজন করা হয়। আইটেক সহযোগিতায় বাংলাদেশ আমাদের প্রধানতম এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। গত বছর কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ই-আইটেকের অধীনে বেশ কয়েকটি ভার্চুয়াল কোর্সের আয়োজন করা হয়েছিল। এসব কোর্সের মধ্যে ছিল প্রথম সারির বিভিন্ন ভারতীয় ইনস্টিটিউটে নারীকেন্দ্রিক প্রোগ্রাম, কোভিড ব্যবস্থাপনা, সুশাসন অনুশীলন, ডেটা অ্যানালিটিক্স, দূর অনুধাবন, অ্যাডাল্ট হেপাটোলজি ইত্যাদি বিষয়ক কোর্স।
২০০৭ সাল থেকে আইটেক কর্মসূচির অধীনে ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি তরুণ পেশাজীবী ভারতে এ ধরনের বিশেষায়িত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী কোর্স সম্পন্ন করেছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের মেধাবীদের সাথে আমাদের সেরা বিষয়গুলো ভাগ করে নেয়ার সুযোগ পাই। যার ফলে, আমরাও এদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে সমানভাবে উপকৃত হই বিশেষ করে যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করছে।
অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে প্রায় ১শ’ জন প্রাক্তন আইটেক শিক্ষার্থীও আইটেক দিবসে উপস্থিত ছিলেন। চলমান মহামারি বিধিনিষেধ বিবেচনায় সীমিত পরিসরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

