স্পোর্টস ডেস্ক : রমিজ রাজার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান হওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই দৌড়ে ছিলেন তিনি একাই। অবশেষে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতার পর আজ সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলো পিসিবি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে জিতে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব নিলেন তিনি। গত মাসে এহসান মানি অপারগতা প্রকাশ করলে চেয়ারম্যান হতে কেবল রমিজই মনোনয়নপত্র জমা দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও পিসিবির প্যাট্রন ইন চিফ ইমরান খান গত ২৭ আগস্ট সরাসরি তাকে মনোনীত করেন। ইমরানের মনোনীত নির্বাচন কমিশনার ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শেখ আজমত সাঈদ ফল ঘোষণা করে রমিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করেন। গভর্নিং বোর্ডের ছয় সদস্য তাকে ভোট দেন।
পিসিবি চেয়ারম্যানের এটি ৩৬তম মেয়াদ এবং ৩০তম ব্যক্তি হিসেবে এই ভূমিকায় রমিজ। ইজাজ বাট, জাভেদ বুর্কি ও আব্দুল হাফিজ কার্দারের পর চতুর্থ সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে বোর্ডের প্রধান হলেন তিনি।
মনোনীত হওয়ার পর থেকে খেলোয়াড় ও বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নেন রমিজ। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নির্বাচনেও তার ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। দল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর প্রধান কোচ মিসবাহ উল হক ও বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনুস পদত্যাগ করেন।
বোর্ডের সঙ্গে রমিজের এটি দ্বিতীয় মেয়াদ। ২০০৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পিসিবির প্রধান নির্বাহী ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে ভারতের পাকিস্তান সফর নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ভারতের কাছে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পর বব উলমারকে কোচ নির্বাচিত করাকে তার সেরা অর্জন বলা হয়। এছাড়া জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি চালুতেও তদারকি ছিল তার। পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তিতেও তার অবদান। একই সঙ্গে ধারাভাষ্যকার থাকা ও স্বার্থের বিভিন্ন সংঘাতের কারণে ২০০৪ সালের আগস্টে ওই দায়িত্ব ছেড়ে দেন রমিজ।
তারপর থেকে পাকিস্তানের প্রধান ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় দেখা গেছে রমিজকে, জাতীয় দলের প্রত্যেক সিরিজেই। তবে এবার তা ছাড়তে হচ্ছে। কারণ আগের মতো ধারাভাষ্য ও বোর্ডের প্রশাসকের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না তিনি।

