ঢাকাWednesday , 9 December 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৩৮ বছরেও পেনশনের টাকা পায়নি ব্যাংক কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৬০ সালে পূবালী ব্যাংকের চাকরিতে যোগদান করেন মো. তোফাজ্জল হোসেন। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৮০ সাল পর্যন্ত পূবালী ব্যাংক এর ১২টি ব্রাঞ্চ ব্যবস্থাপক থাকাকালীন ৩ বছর সেরা ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ ইনক্রিমেন্ট রিঅ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালের ২৪ এপ্রিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে বিশ হাজার টাকার একটি ডিডি জালিয়াতির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে, ইন্টিমেন্ট বোনাস বন্ধ করে। টানা ৩১ মাস যাবতীয় ইনক্রিমেন্ট বোনাস কেটে নেওয়ার পর ১৯৮০ সালের ৩০ ডিসেম্বর ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে জরিমানা ১০ হাজার টাকা ধার্য করেন। সে ক্ষেত্রে, অভিযোগকারী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট পুলিশি তদন্তের আবেদন করেছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে গড়ালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট হতে সঠিক তথ্যাদি অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আদালতে দাখিল করতে ব্যর্থ হয়। তোফাজ্জল হোসেন (১৯৮১-২০০৭) সাল পর্যন্ত কমার্সিয়াল কোর্ট হতে হাইকোর্ট পর্যন্ত ৪টি মামলা পরিচালনায় তার পক্ষে রায় পেলেও আজ অব্দি পূবালী ব্যাংক থেকে তার ৩৮ বছরের অবসরের ভাতা অফেরৎযোগ্য হয়ে আছে। ১৯৮৪ সালের ৩০ জুলাই মাননীয় বিচারক লিখিত রায়ে উল্লেখ করেন যে, ‘মো. তোফাজ্জল হোসেন এর চাকরিচ্যুত অবৈধ এবং ন্যাচারাল বিচারের বিপক্ষে’। নিম্ন আদালতের রায়ের পরেও পূবালী ব্যাংক চাকির ফেরত না দিয়ে কালক্ষেপণ করে। আদালত ২০০৭ সালের ৫ মে তোফাজ্জল হোসেনের চাকরিতে পুনরায় যোগদান এবং সেই সময় পর্যন্ত সকল পাওনা পরিশোধ করার ব্যবস্থার গ্রহণ করার আদেশ প্রদান করেন। উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়ার পর চাকরিতে যোগদানের সুযোগ না দিয়ে পূবালী ব্যাংক ১৯৯৯ মার্চ তোফাজ্জল হোসেনকে গৃহীত পদক্ষেপ দাপ্তরিক চিঠি প্রদান না করে উনাকে নিম্ন পদে জুনিয়র অফিসার হিসেবে অবসর প্রদান করে। মামলা-মোকদ্দমার জটিলতার মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন পেনশনের টাকা পাবার প্রতীক্ষায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে আইনি মোকদ্দমা চালিয়ে গেছেন। সঠিক তদন্তের উপর ভিত্তি করে সুবিচারের আশায় ২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনটি বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায় অনুরূপ নিষ্পত্তি আদেশ প্রদানপূর্বক বিষয়টি অমীমাংসিত অবস্থায় আছে। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে এ বিষয়টির ওপর লিখিত আবেদন করা হলেও বিষয়টি কোর্টে অমীমাংসিত। বর্তমানে মো. তোফাজ্জেল হোসেন (৮০) কর্মক্ষম এবং বাধ্যক্যজনিত জটিলতায় ভুগছেন। বিছানা অথবা হুইল চেয়ারে বসে কাটিয়ে দিচ্ছেন কর্মজীবনের ৩৮ বছরের পেনশনের অপেক্ষার আক্ষেপ নিয়ে।