আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এর মধ্যেই নানা ধরনের তথ্য সামনে আসছে। নির্বাচনের আগে কথা উঠেছিল যে, ইরান ও রাশিয়ার হ্যকারদের কাছে মার্কিন ভোটারদের তথ্য রয়েছে।
এসব হ্যাকাররা হুমকি দিয়ে মেইল পাঠিয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছিল দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সে কারণে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা জারি ছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাইবার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ভোট গণনায় বিদেশি কোনো পক্ষ হস্তক্ষেপ করেছে, এমন কোনো প্রমাণ সরকারের কাছে নেই।
এক বিবৃতিতে ক্রিস্টোফার ক্রেবস বলেন, ‘কোনো বিদেশি পক্ষ আমেরিকানদের ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখতে পেরেছে অথবা ভোটের গণনায় পরিবর্তন করতে পেরেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।’
২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের বিপক্ষে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টার পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সে দাবি করা হয়েছিল যে, নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে।
ক্রেবস বলেন, ‘ভোট গণনার প্রক্রিয়া চলাকালীন বা চূড়ান্ত ফলাফল আসার আগে বিদেশি কোনো পক্ষ যেন প্রভাব খাটাতে না পারে তা নিশ্চিত করতে নজরদারি অব্যাহত রাখব আমরা।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির এখন পর্যন্ত কারচুপির অভিযোগ করার পাশাপাশি একাধিক রাজ্যে ভোট গণনার ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির জানিয়েছে, তারা জর্জিয়ায় মামলা করেছেন। জর্জিয়াসহ তিন অঙ্গরাজ্যে মামলা করা হয়েছে। এর আগে নির্বাচনের দিন রাতের বেলা জনগণের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে লড়াই করতে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন তিনি। একের পর এক রাজ্যে মামলা করা শুরু করে দিয়েছে তার প্রচারণা শিবির।
জর্জিয়ার কিছু এলাকায় ভোট গণনা স্থগিত করার আবেদন করেছেন তারা। জর্জিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটল গ্রাউন্ড রাজ্য যেখানে কোন প্রার্থী জিততে পারেন সে বিষয়ে এখনও ধারণা করা যায়নি।
মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, রিপাবলিকান একজন পর্যবেক্ষক চ্যাথাম কাউন্টির ব্যালটের স্তুপে একজন ভোট গণনা কর্মীকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে আসা ৫৩টি পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করতে দেখেছেন। জর্জিয়ায় ভোটের দিন সন্ধ্যা ৭টার আগে পোস্টাল ভোট র্নিধারিত স্থানে পৌঁছানোর নিয়ম।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা এখনো নিশ্চিত না হলেও সিনেট এবং হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের অধিকাংশ প্রতিযোগিতার ফলই চূড়ান্ত হয়েছে। যে প্রার্থীই জয় লাভ করুন, তারা বিভক্ত একটি কংগ্রেসরই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত চারটি আসন জিতে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আশা ছিল ডেমোক্র্যাটদের। তবে তারা মাত্র একটি আসন দখল নিতে পেরেছে। আর ‘হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’এর আসন ভারসাম্যও প্রায় অপরিবর্তিতই রয়েছে। সেখানেও ডেমোক্যাটরা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইলেকটোরাল মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। এই হিসাবে জয়ের খুব কাছাকাছিই আছেন জো বাইডেন। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ২১৪টি ভোট। আর বাইডেনের হাতে আছে ২৬৪টি ভোট। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ৬টি ভোট।
এখন পর্যন্ত পাঁচটি রাজ্যের ফলাফল হাতে আসেনি। এসব রাজ্যের ভোট গণনা চলছে। তবে ইতোমধ্যেই ফলাফল কী হতে পারে সে বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
জর্জিয়া, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভানিয়া ও আলাস্কার ফল আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি আছে। জর্জিয়ায় মোট ইলেকটোরাল ভোট ১৬টি, নেভাদায় ৬টি, নর্থ ক্যারোলিনায় ১৫টি, পেনসিলভানিয়ায় ২০টি এবং আলাস্কায় রয়েছে তিনটি।
এর মধ্যে শুধুমাত্র নেভাদায় এগিয়ে আছেন বাইডেন। আর বাকি চার অঙ্গরাজ্যে এগিয়ে ট্রাম্প। ওই চারটি অঙ্গরাজ্যে মোট ইলেকটোরাল ভোট ৫৪টি। এখন পর্যন্ত ট্রাম্প ২১৪টি ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত করেছেন। এর সঙ্গে ওই ৫৪টি ভোট যোগ করলে ট্রাম্প পাবেন ২৬৮টি ভোট। জেতার জন্য তার প্রয়োজন আর দু’টি ভোট।
এদিকে, নেভাদায় ট্রাম্প এবং বাইডেনের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই অঙ্গরাজ্যে ৬টি ভোট ট্রাম্পের খাতায় যোগ হলে তিনি পাবেন ২৭৪টি ভোট। অর্থাৎ তার জয় নিশ্চিত। আবার সেখানে যদি বাইডেন ৬ ভোট নিশ্চিত করতে পারেন তবে তিনি পাবেন ২৭০টি ভোট। অর্থাৎ বাইডেনকে জিততে হলে অবশ্যই নেভাদার ৬ ভোট পেতে হবে।
সে কারণে নেভাদার ভোটের ফলাফলের দিকেই এই মুহূর্তে সবার মনোযোগ। সেখানে এখন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এখনও ২৫ ভাগ ভোট গণনা বাকি আছে। কী হতে যাচ্ছে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। আপাতত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষাই করতে হচ্ছে।

